আজকালের ওযেবডেস্ক:
‌নাগরিকত্বের কাগজ দেখাব, লেখাপড়ার ডিগ্রিও দেখাব, কেন্দ্রীয় সরকার বলুক চাকরি কবে দেবে?‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এই জিজ্ঞাসা সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমারের। এদিন বিধাননগরে এনআরসি, ক্যা–বিরোধী সভায় বক্তৃতা করছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌আগে বলা হয়েছিল নোট বাতিলের ফলে সন্ত্রাসবাদের কোমর ভেঙে যাবে। দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাসবাদের কোমর এমন ভাবে ভেঙেছে যে, সন্ত্রাসবাদীরা পুলিশের গাড়িতে লিফ্ট নিচ্ছে!‌ এখন বলা হচ্ছে নাগরিকত্বের নতুন আইনে অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া হবে। আমি নাগরিকত্বের কাগজ দেখাব, ডিগ্রিও দেখাব। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বলুক চাকরি কবে দেবে?‌’‌
বিদ্যুৎ ভবন প্রেক্ষাগৃহে প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিপিআই নেতা ইন্দ্রজিৎ গুপ্তর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
কানহাইয়া বলেন, ‘‌অনেকে আমার কাছ থেকে জানতে চান, আমি সব সময় মোদির বিরুদ্ধে বলি কেন?‌ ব্যাপারটা হল, আমি সংবিধানের পক্ষে বলি। আর মোদি সংবিধানের বিরুদ্ধে। মোদি নিজেকে চা–ওয়ালা বলে পরিচয় দিতে ভালবাসেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র ছিল বলেই একজন চা–ওয়াল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আপনি যে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠেছেন, সেটাই ভেঙে দিতে চাইছেন?‌’‌ তিনি বলেন, ‘‌সরকারের বিরুদ্ধে বললে ডিজিটাল–পিটুনি, অনলাইন পিটুনি চালু হয়ে যায়। আপনি আমাদের নাগরিক না মানলে, আমরাও আপনাকে সরকার মানব না।’‌ মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‌রাবণের দশ মুখের মতো এনআরসি, ক্যা নিয়ে কেন্দ্র এক–এক সময় এক–এক রকম কথা বলছে। যাঁরা সংবিধান মানেন না, তাঁদের পথে চলব?‌’‌ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌বিভাজনের প্রাচীন ভেঙে দিন। এ জন্য রাজনৈতিক রং ভুলে এগিয়েও যেতে হবে।’ দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌দেশের সংবিধান আক্রান্ত। কেন্দ্র সংবিধানের উল্টো পথে চলছে। এনআরসি–র বিরুদ্ধে দেশে জনজাগরণ তৈরি হয়েছে।’‌ উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক স্বপন ব্যানার্জি প্রমুখ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top