আজকালের প্রতিবেদন: বৌবাজারে কিছু পরিবারকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (‌কেএমআরসিএল)‌। এর জন্য ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে তারা অনুরোধ জানিয়েছে, যে বাড়িগুলির কিছুই হয়নি অথচ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেই বাড়িগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে যাতে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া হয়। শনিবারও এই কমিটির সদস্যরা বাড়ি পরিদর্শনে যান। ক্ষতিপূরণের আবেদন নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার জন্য এদিন বৌবাজারের কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেএমআরসিএলের আধিকারিকেরা। বৈঠকে সমাধানসূত্র বেরিয়েছে বলে জানিয়েছেন তঁারা। সেইসঙ্গে সুড়ঙ্গ বিপর্যয় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে জানা গেছে। এদিনও দুর্গা পিথুরি লেন এবং স্যাকরাপাড়া থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি চলছে বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙার কাজ। 
এদিন কেএমআরসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (‌প্রশাসনিক)‌ এ কে নন্দী বলেন, ‘‌যাদের আবেদন নিয়ে সংশয় ছিল সেরকম কিছু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আজ আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দু’‌জনের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সমাধান হয়েছে। ওই এলাকায় অনেক পরিবার আছে, যারা একই বাড়িতে বাস করে। সেক্ষেত্রে কে আসল ক্ষতিগ্রস্ত তা ঠিক করবেন ওই এলাকার পুরপিতা এবং স্থানীয় পুলিশ। এদিনের বৈঠকে স্থানীয় পুরপিতা এবং পুলিশ আধিকারিকেরাও ছিলেন। যে সমস্ত ব্যবসায়ী ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’‌  ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরপিতা সত্যেন্দ্রনাথ দে জানিয়েছেন, এদিন আমরা ৫টি পরিবারের ১৫ জন সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ফ্ল্যাটে থাকার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অনেকে কাছেই ফ্ল্যাট চাইছেন। কিন্তু কাছাকাছি ফ্ল্যাট পাওয়াটাও একটা সমস্যা। রবিবার থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চিহ্নিতকরণের বিষয়টি আমরা শুরু করব। তঁাদের বলা হয়েছে ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং ভাড়ার রসিদ আনতে।
এদিন কেএমআরসিলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বনাথ দেওয়ানজি জানিয়েছেন, শনিবার বৌবাজারে বেশ কয়েকটি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা। আজ পর্যন্ত মোট ৬০টি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন তঁারা। এখনও পর্যন্ত ওই এলাকায় ২০টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে বলে ঠিক হয়েছে। সুড়ঙ্গে কোনও জল ঢুকছে না এবং নতুন করে কোনও মাটির ক্ষয় হচ্ছে না। গ্রাউটিংয়ের কাজ চলছে। ওই এলাকার ব্যবসায়ী এবং ছোট ছোট কারখানাগুলির মালিকেরা যাতে কাজ করতে পারেন তার জন্য লু শান সরণি ছাড়াও আরও দু–‌একটি জায়গায় বাড়ির খোঁজ চলছে। আমরা তঁাদেরও অনুরোধ জানিয়েছি যেন তঁারাও যদি কোনও সুবিধাজনক জায়গার খোঁজ পান, তবে যেন আমাদের নজরে আনেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top