তুফান মণ্ডল, খানাকুল: এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল খানাকুল–২ নম্বর ব্লকের জগদীশতলায়। মৃতের পরিবারের দাবি, এনআরসি আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তঁার। মৃতের নাম উত্তম হাজরা (৩৮)। পেশায় দিনমজুর ছিলেন। মাঠের কাজ ছাড়াও কাঠের কাজ, মাছ ধরা ইত্যাদি করতেন। তঁার দুই শিশু সন্তান রয়েছে। সম্বল বলতে টিনের ছাউনি দেওয়া ইটের গাঁথুনির বাড়ি। জমিজমা কিছুই নেই। 
মৃতের স্ত্রী শ্যামলী হাজরা বলেন, ‘‌বর্তমানে চারদিকে সবাই বলছে বাড়ির কাগজপত্র না থাকলে এখানে আর থাকতে দেবে না কেন্দ্রীয় সরকার। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে। তাই বেশ কয়েকদিন ধরে বাড়ির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র খোঁজাখুঁজি করছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও কাগজপত্র খুঁজে পাননি। তাই কয়েকদিন ধরে চিন্তা করছিলেন। এরপরই মঙ্গলবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তিনি পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন। এখন তঁার মৃত্যুর পর সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না। এই দুটো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি কোথায় যাব?’‌ এই কথা বলতে বলতে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। 
প্রতিবেশীরা জানান, খবরের কাগজে, টিভিতে দেখছি এই রাজ্যেও এনআরসি হবে। তাই আমরা সবাই কাগজপত্র ঠিক করছিলাম। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জমির দলিল ইত্যাদি খুঁজে রাখছিলাম। শুনছিলাম উত্তমও কাগজপত্র খোঁজাখুঁজি করছিল। কিন্তু  জরুরি কাগজপত্র খুঁজে পায়নি। তার জেরেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিল। তাই হয়তো এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে খানাকুল দু’‌নম্বর ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নূর নবী মণ্ডল বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বারবার বলছেন এ রাজ্যে এনআরসি হবে না। যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় আছে ততদিন কেউ এখানে এনআরসি করতে পারবে না। আমরাও গ্রামে গ্রামে প্রচার করছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ কাগজে, টিভিতে রোজ অসমের ঘটনা দেখছেন। তার ওপর সাম্প্রদায়িক বিজেপি এনআরসি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তার জেরেই সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। শুনেছি উত্তম বাড়ির কাগজপত্র খোঁজাখুঁজি করছিল। কাগজপত্র না পাওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু 
হয়েছে তার।’‌
অন্যদিকে অনলাইনে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক ও ভোটার কার্ড সংশোধন করাতে গিয়ে এনআরসি আতঙ্কে ভুগছেন প্রায় আড়াইশো জন গ্রামবাসী। খানাকুল দু’‌নম্বর ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রায় এক হাজার ভোটার। তাঁদের প্রায় সকলেই ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণ করেছিলেন। কেউ নিজেদের বাড়ির মোবাইল ফোন থেকে, আবার কেউ 
কম্পিউটার থেকে। কেউ কেউ সাইবার কাফেতে গিয়ে করেছিলেন। কিন্তু অনলাইনে স্টেটাস চেক করতে গিয়ে দেখেন ‘‌নট রেজিস্টার্ড’‌ লেখা রয়েছে। গ্রামের প্রায় ২৪৫ জনের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। এতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ লালচাঁদ বলেন, ‘‌আমি ভোটার কার্ড 
সংশোধনের জন্য অনলাইনে তথ্য আপলোড করেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর দেখছি ‘‌নট রেজিস্টার্ড’‌ দেখাচ্ছে।‌ তথ্য সংশোধন হয়নি বলে ‘‌নট রেজিস্টার্ড’‌ দেখাচ্ছে নাকি আমার নামটাই ভোটার লিস্ট থেকে বাদ চলে গেল বুঝতে পারছি না। আর যদি তাই হয়, তাহলে তো এনআরসি হলে সমস্যা হবে। নাম বাদ যাবে। কী হবে বুঝতে পারছি না।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top