চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, কেতুগ্রাম: শ্রাবণ চলছে। বর্ষা সেভাবে শুরু হওয়ার আগেই ভাঙতে শুরু করে দিল ভাগীরথী। কেতুগ্রামের মউগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ও পূর্বস্থলীর ঝাউডাঙা পঞ্চায়েত এলাকায় ভাগীরথীর পাড় ভয়াবহভাবে ভাঙতে শুরু করায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে মউগ্রামে যান কাটোয়ার মহকুমা শাসক সৌমেন পাল। ঝাউডাঙা যান কালনার মহকুমা শাসক নীতিশ ঢালি। নৌকায় চেপে ভাঙন পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন দুই মহকুমা শাসক। দু’‌জনেই জানান, ভাঙনের বিষয়টি সেচ দপ্তরের নজরে আনা হবে। যাতে বাড়াবাড়ি আকার না নেয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হবে।’
দেখা গেল নদীভাঙনে কেতুগ্রামের মউগ্রাম পঞ্চায়েতের তিন গ্রাম নারায়ণপুর, রঘুপুর ও নতুনগ্রামের অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। গ্রাম তিনটির বড় অংশ এরই মধ্যে গিলেছে ভাগীরথী। রঘুপুর আর নতুনগ্রামের সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ভরসা নৌকা। যে রাস্তা দিয়ে রঘুপুর থেকে মোকামপাড়া ঘাটে আসতে হয়, সেই রাস্তাটি খেতে শুরু করেছে ভাগীরথী। এটা সেচ দপ্তরের ময়ূরাক্ষী দক্ষিণ ক্যানেল ডিভিশনের অধীন। গত বছরই এই ডিভিশনের কর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে জলসম্পদ ভবনে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙনরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হোক। না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে মউগ্রাম পঞ্চায়েতের এই তিনটি জনপদ। 
ভাঙনের থাবায় হারাতে বসেছে পূর্বস্থলী ২নং ব্লকের ঝাউডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাউডাঙা, হালতেচরা, রুদ্রডাঙা ও কাশীপুর গ্রামগুলির অস্তিত্বও। এই চারগ্রামের সাড়ে ৪ হাজার বাসিন্দা চাইছেন, সরকার এক্ষুণি কোনও ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। এই চারগ্রামের সামনে ভাগীরথী। পিছনে ভাগীরথীরই একটি পরিত্যক্ত খাত ছাড়িগঙ্গা। বর্ষায় দু’‌দিক থেকে আক্রান্ত হয় গ্রামগুলি। ইতিমধ্যেই বহু জমিজিরেত নদীর পেটে ঢুকে গিয়েছে। খেয়াঘাট লাগোয়া ৪০০ মিটার এলাকা চরম ক্ষতিগ্রস্ত। বর্ষার আগে না মেরামতি হলে খেয়া পারাপারটুকুও হয়তো আর করা যাবে না।

জনপ্রিয়

Back To Top