গৌতম চক্রবর্তী, ‌বাসন্তী: বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর ফেলার প্রতিবাদ? সেই রাগে এক প্রৌঢ়কে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল এলাকারই কিছু যুবকের বিরুদ্ধে। বাসন্তীর কুমড়োখালি গ্রামের ঘটনা। মৃত প্রৌঢ়ের নাম ফণী সঁাপুই (‌৫১)‌। মঙ্গলবার ক্যানিং হাসপাতালে তঁার মৃত্যু হয়েছে। মার্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বাসন্তী থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। যদিও অভিযুক্তরা সবাই পলাতক। তাদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে ফণীবাবুর বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর ফেলেন এলাকার কিছু যুবক। রবিবার সকালে তা দেখে রেগে যান তিনি। ওই ঠাকুর ফেলার সঙ্গে পাড়ার কোন কোন যুবক, তাদের নামের তালিকা ছিল। ফণীবাবু তা দেখে সেই সব যুবকের বাড়িতে গিয়ে চিৎকার–চেঁচামেচি ও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। যদিও তাদের বাড়ির লোকজন তঁাকে বুঝিয়ে–সুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেন। এর পর তিনি ওই ঠাকুর পুজোর আয়োজনে মেতে ওঠেন। তার পর আবার তিনি ওই যুবকদের বাড়িতে গিয়ে পুজোর নিমন্ত্রণ করেও আসেন। এতেই খেপে যায় ওই যুবকরা। সকালে গালিগালাজ আর বিকেলে নিমন্ত্রণ করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ফণীবাবুর পরিবারের অভিযোগ, রাতে ওই যুবকরা দলবল নিয়ে বাড়িতে এসে ফণীবাবুকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে কিছু দূরে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তঁাকে গাছে বেঁধে মারধর করে। তিনি গুরুতর আহত হলে তঁার মুখে বিষ ঢেলে দেয় বলেও অভিযোগ। তার পর তঁাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরিবারে লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তঁাকে হাসপতালে নিয়ে যান। সেখানে তঁার অবস্থার অবনতি হলে তঁাকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আইসিইউ–তে ভর্তি ছিলেন তিনি। এদিন সকালে তিনি মারা যান।
এলাকার কিছু মানুষের অভিযোগ, রবিবার সকালে নেশা করে ওই যুবকদের গালিগালাজ করেছিলেন ফণীবাবু। রাতে সেই যুবকরা নেশা করে তঁাকে মারধর করে। যদিও মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃতের পরিবার থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top