চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, ধাত্রীগ্রাম (কালনা): হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বীতে ভালবাসার আবাহন। লোভ–জটিল দ্বন্দ্ব ভেঙে সম্প্রীতির বার্তা। ছড়াতে চায় কালনার ‘ধাত্রীগ্রাম সম্প্রীতি’। সেই লক্ষ্যেই এবার দুর্গাপুজো করবে ‘ধাত্রীগ্রাম সম্প্রীতি’। আর এই পুজোর মধ্য দিয়েই সারা দেশে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায় তারা। ইতিমধ্যে সেই দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো হয়ে গেছে ধাত্রীগ্রাম ফুটবল মাঠে। পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে পুজোর প্রস্তুতি। মূল উদ্যোগ স্থানীয় হাতিপোতা গ্রামের গবেষক রেজাউল ইসলাম মোল্লার।
মমতা ব্যানার্জিকে নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন রেজাউল। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য, মানুষের মনে সম্প্রীতির বীজ ছড়ানো। তার পর সেটাকে ধারাবাহিক লালন–পালনে মহীরুহ করে তোলা। সেই উদ্দেশ্যপূরণেই এবার থেকে দুর্গাপুজো শুরু করছি।’ পুজো কমিটির সভাপতি তরুণ ব্যানার্জি জানালেন, ‘মানুষে মানুষে বিভেদ রুখতে আমরা এখানে হিন্দু–মুসলিম–আদিবাসী, ধনী–দরিদ্র মিলে দুর্গাপুজো করব।’ মুসলিমরা কীভাবে দুর্গাপুজো করবে? ইসলাম ধর্মে তো মূর্তি পুজো নেই!‌ এলাকার কয়েকজনের এই প্রশ্ন স্ট্রেট ব্যাটে খেলে মুসলিম উদ্যোক্তারা দাবি করছেন, ‘‌আমরা মাকে পুজো করব। আর সম্প্রীতির বার্তা ছড়াব। এতে দোষের কিছু নেই।’‌
প্রথমবারের পুজো হলেও, পুজোর লক্ষ্যের কথা ছড়াতে এলাকাজুড়ে উন্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। এলাকার শিক্ষক রাজীব কুণ্ডুর মতে, ‘খুবই প্রাসঙ্গিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই দুর্গাপুজোটি হচ্ছে। জাতপাত, ধর্মের বেড়া ভেঙে মানুষের উৎসবে পরিণত হবে পুজোটি।’ আপাতত অপেক্ষা সেই মিলন–উৎসবের।

কাশফুলে ভরা কংসাবতীর তীর। ডেবরার লোয়াদায়। ছবি:‌ স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top