‌যজ্ঞেশ্বর জানা, কাঁথি: ১১৬বি জাতীয় সড়কের ওডিশা কোস্ট ক্যানেলের ওপর প্রায় ৫০ বছরের প্রাচীন কালীনগরের ক্ষুদিরাম সেতুর রুগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। মাঝেরহাট এবং ফঁাসিদেওয়ায় পর পর দুই সেতু ভেঙে পড়ায় নতুন করে আতঙ্কে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।
সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জং ধরেছে রডে, সেতুর দু’পাশের রেলিং কিছু জায়গায় ভেঙে পড়েছে। ফাটল ধরেছে থামে। সেতুর গা থেকে নীচে খসে পড়েছে চাঙড়। ভয়ঙ্কর অবস্থা স্ল্যাবগুলোর। সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস কিংবা পণ্যবাহী ট্রাক উঠলেই স্ল্যাবের রোলার এবং রোকার বিয়ারিংগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে আর শুরু হয় কঁাপুনি। সেতুর ওপর রাস্তাও বেহাল। কলকাতা থেকে দিঘা যেতে হলে পর্যটকদেরও যেতে হয় এই সেতু পেরিয়ে। আবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কঁাথি, এগরার মানুষের জেলা সদর তমলুক কিংবা কোলাঘাট, হলদিয়া, কলকাতা যাওয়ার ক্ষেত্রেও পেরোতে হয় এই সেতু। স্বাভাবিকভাবে সেতুটির ওপর রোজই যাতায়াত রয়েছে কয়েকশো বাস, ট্রেকার, পণ্যবাহী লরি থেকে শুরু করে যাবতীয় যানবাহন।
সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। দপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য ক্ষুদিরাম সেতুকে ফিট বলেই সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। জাতীয় সড়কের ২ নম্বর ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার তরুণ চক্রবর্তী বলেন, ‘‌৩০ আগস্ট সেতু পরিদর্শন করা হয়েছে। আতঙ্কের কারণ নেই।’‌ খেজুরির বাসিন্দা নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের পঞ্চায়েত কর্মী শমীক পণ্ডার কথায়, ‘‌সেতুর বেশ কয়েকটি জায়গায় রয়েছে ফাটল। সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যান যাতায়াত করে। মাঝেমধ্যে তাপ্পি দেওয়া ছাড়া পূর্ণাঙ্গ ভাবে সেতুর মেরামতির ব্যবস্থা আজও হয়নি।’‌

 

বিপজ্জনক কালীনগরের ক্ষুদিরাম সেতু। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top