উদয় বসু ও সোহম সেনগুপ্ত: চলছে ১৪৪ ধারা, কার্ফু। সোমবার সারা রাত এলাকা জুড়ে চলেছে দুষ্কৃতী–তাণ্ডব, বোমাবাজি। মঙ্গলবার সকাল হতে না হতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাটপাড়া। মঙ্গলবার সকালে কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে ডাউন নৈহাটি লোকাল লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা বোমা ছোঁড়ে। রেল অবশ্য বোমাবাজির কথা অস্বীকার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হন। প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে বাইক, গাড়িতে আগুন লাগাতে থাকে। কাঁকিনাড়া ও জগদ্দল স্টেশনের মাঝে টানা ৩ ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। চরম বিপাকে পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। অসহায় অবস্থার মুখে পড়তে হয় মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের। বিকেলের দিকে জগদ্দলে পৌঁছে অবস্থা আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে পুলিশ।  দৈনন্দিন সন্ত্রাসের জেরে স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভাটপাড়া এলাকায়। রাস্তাঘাট শুনশান। দোকানপাট বন্ধ। বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন মানুষ। এ সবের পেছনে রয়েছে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। এমনই অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশন, জেলাশাসকের কাছে অবিলম্বে অর্জুনের গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র। অন্যদিকে অর্জুনের বক্তব্য, মদন মিত্র কামারহাটি থেকে কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের এখানে এনে এলাকা অশান্ত করে তুলছে। তিনি মিলিটারি হস্তক্ষেপ চেয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিন বারাসতে জেলাশাসকের দপ্তরে যান খাদ্যমন্ত্রী ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্রও। জেলাশাসক অন্তরা আচার্যের কাছে তিনি অভিযোগ করে জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাঁদানে গ্যাসের সেল ব্যবহার করছেন অর্জুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ভাটপাড়ায় শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। আর তা না হলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভাটপাড়া অভিযান করবে তৃণমূল। জ্যোতিপ্রিয় জানান, ভাটপাড়ায় তৃণমূলকর্মীদের বাড়ি, গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন অর্জুন ও তাঁর অনুগামীরা। এদিন ব্যবহৃত কাঁদানে গ্যাসের সেলের গ্যাস অনবধানতাবশত মদন মিত্রের চোখে লাগায় আধ ঘণ্টা ধরে চোখ খুলে তাকাতে পারেননি তিনি। এদিকে, এদিন জেলাশাসকের কাছে ভাটপাড়ার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, বিধায়ক মানস মুখার্জি, তন্ময় ভট্টাচার্য, নেপালদেব ভট্টাচার্য, গার্গী চ্যাটার্জি–সহ সিপিএম নেতারা।

জনপ্রিয়

Back To Top