তরুণ চক্রবর্তী: ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি ফের বাংলার স্বার্থে আঘাত হানতে চলেছে। পূর্ব রেলের পর এবার ডানা ছাঁটা হতে পারে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের। এমনকী, কলকাতা থেকে রাঁচিতে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের সদর দপ্তর সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বিজেপি নেতারা। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশিকা আসেনি গার্ডেনরিচে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে। জল্পনা চলছে। ৬৪ বছরের পুরনো রেল ভবনের কর্মীরাও দোটানায়। তাঁরা নিশ্চিত, সদর দপ্তর না বদলালেও নতুন জোন খুলতে পারে পীযূষ গোয়েলের রেলমন্ত্রক। আর তাতেই কমতে পারে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের লাভের গরিমা।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের দাবি, রেল জোনের সদর দপ্তর করতে হবে রাঁচিতে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের আয়ের মূল উৎস ঝাড়খণ্ড। লোহা, কয়লা বহন করে লাভের ঘর ভরিয়ে তুলছে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেল। এই যুক্তিতে জোনাল সদর চাইছেন তিনি। সেইসঙ্গে রঘুবরের যুক্তি, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় বা উত্তরাখণ্ডের মতো নতুন রাজ্যগুলি নতুন করে রেল জোন পেলে, ঝাড়খণ্ড কেন পাবে না? এক্ষেত্রে অবশ্য পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। তেলেঙ্গানার জন্মের আগে থেকেই শর্ত ছিল নতুন রেল জোনের। রাজ্য গঠনের পর সেই শর্ত পূরণ করা হয়। ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনও শর্ত ছিল না।
রঘুবর দাসের থেকে এক কদম এগিয়ে বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ দাবি তুলেছেন দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের সদর দপ্তর কলকাতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাঁচিতে। ডানা ছাঁটাই শুধু নয়, তিনি গার্ডেনরিচ থেকে সদর দপ্তর তুলে নিয়ে যেতে চান নিজেদের রাজ্যে। আসলে ঝাড়খণ্ডে মোদি জমানায় রেলের উন্নয়নকে বড় ইস্যু করতে চাইছে বিজেপি। তুলে ধরার চেষ্টা চলছে কংগ্রেস জমানার তুলনায় বর্তমান সরকার রেলকে হাতিয়ার করে রাজ্যটির উন্নয়নে কতখানি সফল। শুরু হয়েছে সেই প্রচারাভিযানও। এখন ঝাড়খণ্ডের মানুষদের আবেগকে আরও সুড়সুড়ি দিতেই জোনাল হেড কোয়ার্টার নিয়ে টানাটানি করতে চাইছে বিজেপি। তবে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। 
প্রসঙ্গত, এক সময়ে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের হাতে ছিল ৮টি জোন। কিন্তু সেখান থেকে খুরদা রোড, বিশাখাপত্তনম ও সম্বলপুর ডিভিশন আগেই তুলে দেওয়া হয় নবগঠিত পূর্ব উপকূল রেলের হাতে। আর বিলাসপুর ও নাগপুর যুক্ত হয় আরেক নবগঠিত রেল জোন দক্ষিণ পূর্ব মধ্য রেলে। বর্তমানে নবগঠিত রেল ডিভিশন রাঁচি ছাড়া দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের হাতে রয়েছে খড়্গপুর, আদ্রা ও চক্রধরপুর। রাঁচির জন্য নতুন রেল জোন গঠিত হলে রাঁচি ছাড়াও আদ্রা ও চক্রধরপুর হারাতে পারে গার্ডেনরিচ। বিহার হারাতে পারে পূর্ব মধ্য রেলের ধানবাদ ডিভিশনও। এই ধানবাদ অবশ্য এক সময়ে কলকাতায় পূর্ব রেলের সঙ্গেই ছিল। কিন্তু দানাপুর ও মোঘলসরাইয়ের সঙ্গে ধানবাদকেও কেটে ফেলা হয় পূর্ব রেল থেকে।
গার্ডেনরিচের রেল ভবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বললেন, এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। এখনও কোনও উদ্যোগ শুরু হয়নি। পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে রেলমন্ত্রকের ওপর। দিল্লি থেকে এখনও কোনও নির্দেশিকা দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে আসেনি বলেও সাফ জানান সঞ্জয়বাবু।

গার্ডেনরিচে দক্ষিণ–‌পূর্ব রেলের সদর। 

জনপ্রিয়

Back To Top