রাজীব চক্রবর্তী
দিল্লি, ১২ আগস্ট

দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। ভেন্টিলেশনে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর রক্তচাপ স্বাভাবিক। দিল্লির আর্মি আর আর হাসপাতাল এই খবর দিয়েছে। 
বুধবার হাসপাতালের হেলথ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ‘‌প্রণব মুখার্জির শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। তাঁর রক্ত চলাচল ও রক্তচাপ স্বাভাবিক। তাঁকে ভেন্টিলেটরেই রাখা হয়েছে।’‌ প্রণব–‌কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখার্জি বুধবার এক টুইটে লিখেছেন, ‘‌গত বছর ৮ আগস্ট আমার কাছে অত্যন্ত খুশির দিন ছিল। ওইদিন আমার বাবা ভারতরত্নে ভূষিত হয়েছিলেন। ঠিক এক বছর পর তিনি ভীষণ অসুস্থ। আশা করি ঈশ্বর সেটাই করবেন, যেটা তাঁর জন্য ভাল। ঈশ্বর আমাকে আনন্দ এবং দুঃখ একই ভাবে গ্রহণ করার শক্তি দিন। যাঁরা তাঁর জন্য উদ্বিগ্ন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ প্রণব–পুত্র অভিজিৎ মুখার্জি বলেছেন, ‘‌অপারেশনের পর বাবা ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু তারপর অবস্থার অবনতি হয়েছে। বাবার আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছি।’‌ তিনি জানিয়েছেন, এদিন সন্ধে থেকে বাবার অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও স্থিতিশীল হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে খবর, শারীরিক অবস্থার উন্নতির পরিবর্তে কিছুটা অবনতি হয়েছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির। যদিও এখন তিনি স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছেন। শরীরে করোনাজনিত কোনও সমস্যা বা উপসর্গ নেই। জটিল অস্ত্রোপচার করে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, অস্ত্রোপচার যেখানে, সেখান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। ফলে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা মনে করছেন, তিনি নিয়মিত রক্তের ঘনত্ব কমানোর ওষুধ খান। তাই রক্তক্ষরণ কমছে না। 
১০ আগস্ট মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভেন্টিলেশনে। সেদিন রাতে বাড়ির শৌচাগারে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছিলেন প্রণববাবু। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর জরুরি ভিত্তিতে পরপর দু’‌‌বার জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের আগে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসে।‌‌‌ এদিকে তাঁর সুস্থতা কামনা করে জঙ্গিপুরের বিভিন্ন জায়গায় মন্দিরে, মসজিদে শুরু হয়েছে পুজো–যজ্ঞ ও দোয়া। রঘুনাথগঞ্জের তুলসীবাড়ি জগন্নাথ মন্দিরে কংগ্রেস কর্মীরা তঁার সুস্থতার জন্য পুজো ও যজ্ঞ করেন। মহিষাদলেও এদিন সকাল থেকে স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ সরস্বতীর মন্দিরে বার্ষিক পুজোপাঠের সঙ্গে চলে প্রণববাবুর আরোগ্য কামনায় পুজো।‌‌‌ মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলার শীতলা মন্দিরেও তাঁর জন্য যজ্ঞ করেন মানুষ। প্রণববাবু জঙ্গিপুরকে বলতেন, ‘‌আমার দ্বিতীয় ঘর।’‌ রঘুনাথগঞ্জের কাছে দেউলিতে করেছেন বাড়ি। ৯ বছর সাংসদ হিসেবে ওতপ্রোত জড়িয়ে ছিলেন জঙ্গিপুর তথা মুর্শিদাবাদের সঙ্গে। কাছের মানুষ, কাজের মানুষ সেই প্রণববাবুর অসুস্থতার খবরে জঙ্গিপুর–‌সহ গোটা মুর্শিদাবাদের মন খারাপ। সবার একটাই প্রার্থনা— তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন। ২০০৪ সালে জঙ্গিপুরে প্রণববাবুর কাছে পরাজিত সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ আবুল হাসনাত খান বলেন, ‘‌সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরুন প্রণববাবু।’‌ ‌ তৃণমূলের সৌমিক হোসেন বলেন, ‘‌আমাদের বাড়িতে কতবার এসেছেন, তার হিসাব নেই! আমার বাবা সাংসদ মান্নান হোসেন যখন মারা যান, নিজে ফোন করে খবর নিয়েছেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top