যজ্ঞেশ্বর জানা: শনিবারও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এল না হলদিয়া পেট্রকেমিক্যালসের আগুন। সংস্থার নিজস্ব অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার সাহায্যে চেষ্টা চলছে আগুন নেভানোর। জানা গেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত পাইপের মধ্যে থাকা পেট্রোকার্বনের পুরোটা পুড়ে শেষ না হয়, ততক্ষণ আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো সম্ভব নয়। আগুন জ্বলতেই থাকবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদিন সকালে দূর থেকে মাঝে মধ্যেই ধোঁয়া দেখতে পাওয়া গেছে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, যে পাইপ থেকে অতি দাহ্য হাইড্রোকার্বন গ্যাস লিক করে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল, তা এখনও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। অপর দিকে, পাইপের গ্যাস সম্পূর্ণভাবে এখনও শেষ হয়নি। তাই একদিন কেটে গেলেও সমস্ত রকম চেষ্টা করেও নেভানো যায়নি আগুন। 
শুক্রবার রাত থেকে ন্যাপথা ক্র্যাকার ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্যে জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পেট্রোকেম কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে কারখানায়। এইচপিএলের প্ল্যান্ট হেড অশোককুমার ঘোষ বলেন, ‘‌জরুরি কারণে ন্যাপথা ক্র্যাকার ইউনিটের মূল বিভাগ শুক্রবার রাত থেকে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া এখনও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। বর্তমানে প্ল্যান্ট প্রচুর উত্তপ্ত থাকায় তা কুলিং প্রসেসের আওতায় রাখা হয়েছে।’‌ জানা গেছে, এই বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্ল্যান্টের যন্ত্রাংশের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তবে প্ল্যান্ট বন্ধ থাকার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় চল্লিশ কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ হলদিয়া পেট্রকেমিক্যালসের ন্যাপথা ক্র্যাকার ইউনিটে প্রথমে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। ন্যাপথা ক্র্যাকার প্ল্যান্টে সেই সময় কম্প্রেসার ভাল্ব লাগানোর কাজ চলছিল। সেই মুহূর্তে ন্যাপথাবোঝই ছিল গোটা ইউনিট। ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কর্মরত মোট ১৩ জন কর্মী আগুনে ঝলসে যান। বর্তমানে তঁারা কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর জখম ৩ কর্মীকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কলকাতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেট্রোকেম কর্তৃপক্ষ। জখমদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থা। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও সুনিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই আগুন লাগার ঘটনায় অভিযোগ উঠছে নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে। একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত থাকার পরও কীভাবে এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন পেট্রকেম কর্তৃপক্ষ। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রয়েছে প্রশাসনেরও। হলদিয়ার মহকুমা শাসক কুহুকভূষণ বলেন, ‘‌আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সমগ্র পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top