গৌতম চক্রবর্তী: দু’‌দিনের বৃষ্টির দাপটে জলে ভাসছে সোনারপুর। সোনারপুর মোড় থেকে রাজপুর যাওয়ার হরিধন চক্রবর্তী সরণির বেশিরভাগ এলাকা জলে ডুবে। এই রাস্তার বৈকুণ্ঠপুর মোড় পর্যন্ত মনে হচ্ছে যেন পুকুর। তার মধ্যেই খিরিশতলায় রাজপুর–সোনারপুর পুরসভার শাখা কার্যালয়ের একদিক জলমগ্ন। এছাড়াও সোনারপুরের মিশনপল্লী, রাধাগোবিন্দপল্লী, মিলনপল্লী, বৈকুণ্ঠপুর মাস্টারপাড়া রোড, পিরতলা, শিমূলতলা, বোড়াল, সুভাষগ্রাম, চণ্ডীতলা পার্ক, কামরাবাদ ও নরেন্দ্রপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা জলের তলায়। এলাকা থেকে দ্রুত জল সরাতে পুরসভা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে। পুরকর্মীদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পাম্প বসিয়ে জল সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে পুরসভা।
এদিকে, জল ঢুকে পড়েছে স্কুলের ভেতরেও। এমনকী শ্রেণিকক্ষও জলে থইথই। শিক্ষক–শিক্ষিকারা স্কুলে এলেও আসেননি একজন পড়ুয়াও। ফলে স্কুলে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সোনারপুরের চৌহাটি ডি ব্লকের জি এস অবৈতনিক প্রাইমারি স্কুলের ঘটনা। এমন অবস্থা দেখে অবাক স্কুলে হাজির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও।
শুধু সোনারপুর নয়, জলমগ্ন বারুইপুর পুরসভারও বিভিন্ন এলাকা। জলমগ্ন অবস্থা বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের প্রবেশপথ। অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতেও হচ্ছে অসুবিধা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলনিকাশি ব্যবস্থার হাল শোচনীয়। পাশাপাশি জমা জলে দুর্ভোগে পড়েছে পুরসভার ৪ নম্বর, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পঞ্চাননতলা থেকে পালপাড়া, দত্তপাড়া যাওয়ার রাস্তায় পর্যন্ত হাঁটু–সমান জল জমেছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড মাস্টারপাড়া শিবতলা ক্লাব থেকে বেলতলা মোড় ও স্বাধীন সঙ্ঘ ক্লাব থেকে দাসপাড়া রোডে এবারও হাঁটু–সমান জল। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ট্যাপ কল ড্রেনের জল আর বৃষ্টির জমা জলে মিশে গিয়েছে। পানীয় জল পান করতে পারছেন না বাসিন্দারা। অন্যদিকে, ভাঙড়েও জমা জলে সমস্যায় মানুষ। ভাঙড় কলেজ রোড, সাতুলিয়া বাজার, বাগজোলা খাল সংলগ্ন রাস্তা, বিজয়গঞ্জ বাজার, মিঠাপুকুর বাজার এলাকায় জমা জলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাসিন্দাদের।

জনপ্রিয়

Back To Top