গৌতম মণ্ডল,পাথরপ্রতিমা: ভরা বর্ষায় বাঙালির পাতে ইলিশ পড়লেও দামের ছেঁকায় ক্রেতাদের হাত পুড়ছে। কিন্তু অবিকল ইলিশের স্বাদের ‘মিল্ক ফিশ’‌ এবার সারা বছর বাঙালির পাতে তুলে দিতে চলেছেন সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা। গত ২০১৫ সাল থেকে সারা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রাজ্যের উপকূলের পুকুরে এই মাছের চাষ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের সমুদ্রে আগেই এই মিল্ক ফিশ বা চ্যানস মাছের সন্ধান মিলেছিল। পরে কেন্দ্রীয় নোনা জীবপালন ও অনুসন্ধান সংস্থার (‌সিবা)‌ কাকদ্বীপ শাখা এই মাছের চারা বিতরণ করেন এলাকার কয়েকজন মৎস্যজীবীকে। তখন থেকে সুন্দরবনের নামখানা, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ এলাকার পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে ফিলিপিন্সের এই জাতীয় মাছের। 
গত ৬ মাস আগে পাথরপ্রতিমার শিবগোবিন্দপুরের মৎস্যচাষি অনিমেষ দাসকে কৃত্রিম চ্যানস মাছের চারা দিয়েছিলেন কাকদ্বীপ গবেষণাকেন্দ্রের মৎস্য বিজ্ঞানীরা। যৌথ উদ্যোগে এই চাষ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি সেই মাছের বৃদ্ধি দেখলেন বিজ্ঞানী তাপস ঘোষাল, সঞ্জয় দাস, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন পাথরপ্রতিমার বিডিও রথীন দে ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আব্দুল রেজ্জাক মোল্লা। সেদিন জাল দিয়ে মাছ তোলা হয়। ৬ মাসের মাছের গড় ওজন হয়েছে প্রায় ৪০০ গ্রামের বেশি। পাইকারি বাজারে এই মাছ বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কিলো দরে। চাষের খরচের তুলনায় মাছচাষিদের লাভের পরিমাণও বেশ ভাল।
বিজ্ঞানী তাপস ঘোষাল বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে চ্যানস মাছের কৃত্রিম প্রজনন আমাদের দেশে শুরু হয়েছে। এ রাজ্যেও সফলভাবে সেই চাষ করা হয়েছে। সেই মাছ ধরে এলাকার মৎস্যচাষিদের দেখানো হয়েছে। তঁাদের উদ্ধুব্ধ করা হয়েছে। আমরা চাইছি আগামী দিনে সুন্দরবনের চাষিরা এই চাষ করুক। এই চাষ করে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হবেন চাষিরা। প্রতি কিলোতে চাষিরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা লাভ পাবেন। এই মাছ ইলিশের বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই মাছ চাষ করতে চাইলে কাকদ্বীপের সিবাতে যোগাযোগ করতে পারেন।’‌
এক মৎস্যচাষি অনিমেষ দাস বলেন, ‘প্রচলিত মাছের চাষের সঙ্গে এই মাছের চাষ করতে উৎসাহ পাচ্ছি। এই চাষই করব। কারণ লাভও ভাল।’‌‌ সুন্দরবনের মাছচাষিদের কাছে নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে এই মিল্কফিস চাষে। মাছচাষি দীপঙ্কর বেরা বলেন, ‘১ বিঘা জমিতে ৬ মাসে মাছের জন্য খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। প্রথমে ২ কুইন্ঠাল মাছ বিক্রি করেছি। গড়ে দাম পেয়েছি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কিলো দরে। আরও ৭ থেকে ৮ কুইন্টাল মাছ হবে। সব মিলিয়ে লাভ হবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। বাজারে এই মাছের চাহিদা আছে। আড়তদাররা এই মাছ চাইছেন। এই মাছের মড়কও হয় না।’

জনপ্রিয়

Back To Top