‌স্বদেশ ভট্টাচার্য, বসিরহাট: আচমকা ইছামতীর ভাঙনে ইটিন্ডা আখারপুরের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।‌ অনেকেই ভয়ে বাড়ি ছাড়ছেন।
ইছামতী ভাঙনে তলিয়ে যেতে বসেছে রাস্তা, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছগাছালি এবং বসতবাড়ি। আতঙ্কে তাই রাত জাগছেন এলাকার মানুষ। নদীপাড়ের উদ্বিগ্ন মানুষ চাইছেন, অবিলম্বে কাজ শুরু হোক বাঁধে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, সেচ দপ্তরের আধিকারিক, বিডিও–‌র প্রতিনিধিরা। গাছা–আখারপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শিশির দত্ত বলেন, ‘রাস্তায় ধস, বাড়িতে যেভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হতে পারে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসনও। বসিরহাট–‌১ ব্লকের বিডিও তাপস কুণ্ডু বলেন, ‘সেচ দপ্তরকে দ্রুত বাঁধ মেরামতির জন্য বলা হয়েছে।’  ব্লক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  নিকারিপাড়ার পাশ দিয়ে নদীর পাড় ঘেঁষে চলে গেছে ইট পাতানো রাস্তা। এদিন বিকেলে ওই রাস্তার মাটি বসে রাস্তা ভেঙে গেছে। ফাটল ধরেছে নদীপাড়ের গার্ডওয়ালে। বাড়িগুলিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। আধিকারিকদের দাবি, ইছামতীর বাঁকের মুখে ফাটলের জায়গায় মাটির তলা ফাঁকা হয়ে গেছে। তার ফলে রাস্তা, বাড়ি ফাটল ধরে বসে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহুর মণ্ডল, শেখ জব্বার বলেন, ‘এখানে ২০০–‌র বেশি পরিবারের বাস। অধিকাংশের জমি নদীতে চলে গেছে। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে নদীপাড়ে ঘর করে বাস করছেন। আসমা বিবির ঘর হেলে পড়েছে। রমজান আলি, এসরাফ আলি, হানিফ মণ্ডলের ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। হেলে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি। রাস্তা বসে যাচ্ছে। কমবেশি তিনশো ফুটের মতো বাঁধের ফাটল অবিলম্বে মেরামতির কাজ শুরু করা না হলে ইটিন্ডা, ঢেমঢেমি, আখারপুর, দাসপাড়া, নিকারিপাড়া, শিবহাটি, প্রসন্নকাটি, চাষাপাড়া, গাছা–সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নোনাজলে প্লাবিত হবে।’
এদিন হেলে পড়া ঘরে দঁাড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসমা বিবি। স্বামী জব্বার গাজি বাড়ি বাড়ি পোশাক ফেরি করেন। তঁাদের সরকারি আবাস যোজনার ঘরের দেওয়ালে একাধিক লম্বা ফাটল। আসমা বলেন, ‘৩ বাচ্চা নিয়ে ঘর করি। পঞ্চায়েত থেকে ঘর করে দিয়েছিল। সেই ঘর এবার আর রক্ষা করা যাবে না। যেভাবে নদীর দিকে হেলে গেছে তাতে যে কোনও মুহূর্তে ইছামতী গিলে নেবে। বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব জানি না।’ 

জনপ্রিয়

Back To Top