শুভঙ্কর পাল,শিলিগুড়ি: ঘড়িতে সকাল ১০টা বেজে ২০ মিনিট। তখনও একতলার ঘরেই শুয়ে সম্রাট। হঠাৎ ‘‌ভূমিকম্প ভূমিকম্প’‌ চিৎকার। পাশেই প্রিয় কুকুর ‘‌হ্যাপি’‌। এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছিল ল্যাব্রাডরটি। সম্রাট কোলে তুলে নেন হ্যাপিকে। সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি নিচে নেমে আসেন। বুকে জড়িয়ে রাখা হ্যাপি নড়ে ওঠে। সামলাতে না পেরে বাড়ির গেট থেকে কিছুটা দূরে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান ২২ বছরের সম্রাট দাস। নাক‌–‌‌মুখ দিয়ে সামান্য রক্ত। ছুটে আসেন মা–‌‌বাবা। কিন্তু আর চোখ খোলেননি সম্রাট। সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন। সম্রাট বাড়ির ছোট ছেলে। ইচ্ছে ছিল শিক্ষক হওয়ার। মুর্শিদাবাদে একটি বিএড কলেজে পড়াশোনাও করছিলেন। প্রভুকে হারিয়ে বাড়ির এক কোণে চুপচাপ বসে পড়ে হ্যাপি। কখনও কখনও ডুকরে কেঁদে উঠছে অবলা প্রাণীটি। নার্সিংহোমে যান পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার। মন্ত্রী গৌতম দেব ও মেয়র অশোক ভট্টাচার্য সমবেদনা জানান। নার্সিংহোমে কাঁদতে কাঁদতে সম্রাটের মা ঊষা দাস বলেন, ‘‌ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল। কলেজ ছুটি থাকায় কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছিল। বাড়ির মধ্যেই মৃত্যু হবে তা কে জানত।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top