মিল্টন সেন, হুগলি: আতঙ্কিত বাবা–মা, বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীরা চেপে গেলেও, ঠাকুমাকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত চুঁচুড়ার ইন্দ্রনীল রায়ের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন তারই বন্ধুদের একাংশ। আর তার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, অত্যধিক নেশার ফলেই কি এই বিকৃত মানসিকতা?
মঙ্গলবার পুলিশি পাহারায় চুঁচুড়া আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ইন্দ্রনীল বলতে থাকেন, ‘‌ঠাকুমা, ঠাকুমা নয়। এরা কেউ মানুষ নয়। অন্য কেউ। এরা বহুরূপী। এদের আরও অনেক রূপ আছে।’‌ রবিবার গভীর রাতে ঠাকুমা আরতি রায়কে কুপিয়ে খুন করে শ্রীরামপুর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ইন্দ্রনীল। একই সঙ্গে রেলকর্মী বাবা বিশ্বজিৎ রায় ও মা তাপসী রায়কেও প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে গোটা ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করতে থাকে। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তাণ্ডব চালানোর পর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ইন্দ্রনীলকে গ্রেপ্তার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। সোমবার রাতে চুঁচুড়া থানাতেও তাণ্ডব চালায় ইন্দ্রনীল। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া এবং শৌচালয়ে যাওয়ার সময় বাঁধন সাময়িক খোলা হলেও থাকছিল কড়া পাহারা। ধৃতের বিকৃত মানসিকতার কথা মাথায় রেখে রাতে তাকে লক–আপে রাখা হয়নি। রাখা হয়েছিল থানার ভেতরের ঘরে। হাত বাঁধা অবস্থাতেই তাণ্ডব চালায়, ভেঙে ফেলে থানার টেবিলের ওপরে থাকা কাচ। উল্টে দেয় চেয়ার–টেবিল। শেষে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আগেও একাধিকবার নেশার ঘোরে বাড়িতে অশান্তি করেছে ইন্দ্রনীল। থানা–পুলিশও হয়েছে। অতিরিক্ত নেশা করত বলে তার সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করেছিলেন অধিকাংশ বন্ধুবান্ধব। সোমবার সকালে করা ইন্দ্রনীলের ফেসবুক লাইভ দেখে তার স্কুলের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যান্ডেল লিচুবাগান এলাকার বিনীত সিং বলেন, ‘‌ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সে খবর পেয়েছিলাম। ২০১৭ সালে স্কুলের বন্ধুদের একটি গেট–টুগেদারে তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। সেখানে ইন্দ্রনীলের আচরণে ভয় পেয়েছিল প্রত্যেকেই। পার্টিতে গাঁজা, মদ একসঙ্গেই খাচ্ছিল সে। স্কুল শেষ করার পর থেকেই নেশার প্রতি আসক্তি বেড়েছিল ইন্দ্রনীলের।’ সোমবার ফেসবুকে ইন্দ্রনীলের আচরণ দেখে বিনীতের মন্তব্য, ‘‌ও অপরাধী, এখন সাজা থেকে বাঁচতে নাটক করছে।’‌ এদিকে, সোমবার চুঁচুড়া থানায় বসে ছেলের নেশা করার বিষয়ে জানা নেই বলে এড়িয়ে গেছেন বাবা বিশ্বজিৎ রায়। মঙ্গলবার ইন্দ্রনীলকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে চুঁচুড়া জেলা আদালত। পাশাপাশি চলবে তার চিকিৎসাও।

জনপ্রিয়

Back To Top