প্রদীপ দে,বহরমপুর: ওঝার বুজরুকি বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। সেই রাগে গ্রামের কিছু লোক গ্রামবাসীদের উসকানি দিয়ে বৃহস্পতিবার রাস্তা অবরোধ করায়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে তাদের আক্রমণ করে। ইট মেরে মাথা, মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয় হরিহরপাড়া থানার ওসি আবদুস সালাম শেখের। আহত হয়েছেন আরও ১০ পুলিশ কর্মী। পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুরও করেছে। পরে বহরমপুর থেকে কমব্যাট বাহিনী ও চারপাশের ৩–৪টি থানা থেকে পুলিশ গিয়ে অবস্থা আয়ত্তে আনে।
হরিহরপাড়ার স্বরূপপুর মোড়ে হরিহরপাড়া–নওদা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেছিল কিছু লোক। হরিহরপাড়ার খলিলাবাদ গ্রামে আমজাদ শেখ নামের এক দর্জি দইপড়া দিয়ে ক্যান্সার রোগের ওষুধ দিচ্ছিল। গত দেড় মাস ধরে চলছিল তার বুজরুকি। দূর েথকে বহু লোক ওই দইপড়া নিতে আসত। গ্রামে যেন মেলার মতো দোকান বসেছিল। কীভাবে করত বুজরুকি? রোগীরা ভঁাড়ে দই আনত। আমজাদ সেই দইয়ে ফুঁ দিয়ে মন্ত্র পড়ে দিত। এর জন্য মোটা টাকা নিত সে। দেড় মাস ধরে এমন বুজরুকি চললেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা প্রথমে নেয়নি। মুর্শিদাবাদের জেলা বিজ্ঞানমঞ্চ এমন খবর শুনেই প্রশাসনের কাছে দাবি জানালে গত সোমবার রাতে হরিহরপাড়ার পুলিশ গিয়ে বুজরুকি বন্ধ করে দেয়। বুধবার গ্রাম ফঁাকা করে দেয়। আর ওঝা আমজাদ পালিয়ে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে খলিলাবাদের কিছু লোক গ্রামের মানুষের ভুল বুঝিয়ে রাস্তা অবরোধ করায়। খবর পেয়ে হরিহরপাড়ার ওসি আবদুস সালাম নিজে যান অবরোধ তুলতে।
সালাম তাদের বলেন, ‘‌আমজাদ বুজরুকি করে টাকা আদায় করছিল। দইপড়া দিয়ে ক্যান্সার সারে না।’‌ কিন্তু অবরোধকারীরা ওসির কথা শুনতে চায় না। উল্টে বাঁশ, কাঠ রাস্তায় ফেলে অবরোধ চালাতে থাকে। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট মারতে থাকে। পুলিশের দুটি গাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পাল্টা পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। এই সময় ইট এসে পড়ে ওসি সালামের মাথা ও মুখে, বুকে। মাথা ফেটে দু’‌ফঁাক হয়ে যায়। মুখও ফাটে। জোর আগাত লাগে বুকেও। ওসির সঙ্গে আহত হন সিভিক পুলিশ–সহ আরও ১০ পুলিশ কর্মী। আহত ওসিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পরে বহরমপুরে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ মার খাওয়ার খবর বহরমপুরে আসতেই পাঠানো হয় কমব্যাট–সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। আশপাশের ৩–৪টি থানা থেকেও পুলিশ আনা হয়। জেলার এসপি শ্রীমুকেশ বলেন, ‘‌গ্রামের কয়েকজন গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তা অবরোধ করাতে এনেছিল। তারা কারা আমরা সেটি দেখছি। এর পিছনে আর কোনও কারণ আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’‌ খলিলাবাদ গ্রাম পুরুষশূন্য। গ্রামে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

 

জখম পুলিশ অফিসারকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top