যজ্ঞেশ্বর জানা, রামনগর: নিখোঁজ হওয়ার পর কেটে গেছে ১০ মাস। তবু খোঁজ মেলেনি মেয়ের। মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে হতাশ বাবা–মা বটেশ্বর মাইতি ও মহুয়া মাইতির অভিযোগ, অপহরণ করা হয়েছে তঁাদের মেয়েকে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পরও নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ নাকি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও পুলিশের তরফে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন কঁাথির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এম এম হাসান। তিনি বলেন, ‘‌অভিযোগ পাওয়ার পরই রামনগর থানার পুলিশ মোবাইলের সূত্র ধরে রাজস্থানেও  গিয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত নাবালিকাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা নাবালিকা উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’‌ 
নাবালিকার বাড়ি রামনগর থানার দক্ষিণ বাসুলিপাটে। জানা গেছে, গত বছর ৬ অক্টোবর রামনগর গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল স্কুলে পরীক্ষা দিতে। ওইদিন সন্ধেয় রাস্তার মাঝে সাইকেল উদ্ধার হলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। এ বিষয়ে পরিবারের লোকেরা প্রথমে রামনগর থানায় এবং পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় গত ১৪ নভেম্বর অভিযোগ জমা করেছিলেন ভবানীভবনে সিআইডি–র দপ্তরে। কিন্তু নাবালিকার হদিশ করতে পারেনি সিআইডিও। পরিবার সূত্রে খবর, স্থানীয় দক্ষিণ বাসুলিপাট গ্রামের অসিত গিরি নামে এক যুবক প্রায়ই রাস্তাঘাটে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। ঘটনার দিন স্কুল যাওয়ার সময় তার রাস্তা আটকে ছিল অভিযুক্ত৷ সেদিনের পর থেকে নিখোঁজ অসিতও।
নাবালিকার বাবা–মার দাবি, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর বাড়িতে ফোন করেছিল মেয়ে। তখন সে কান্নাকাটি করে। বাড়ি ফিরতে চায় বলে জানিয়েছিল। আর মেয়ে ফোন করেনি। চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এর পর গত জানুয়ারি মাসে আর একটি নতুন নম্বর থেকে অসিত ফোন করে মামলা তুলে নিতে বলে ওই দম্পতিকে। মামলা তুলে না নিলে তঁাদের নাবালক ছেলেকে অপহরণ করে খুন করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। সব কথাই পুলিশকে জানিয়েছিলেন তঁারা। 

ছবি: অভিযুক্ত অসিত গিরির। 
 

 

জনপ্রিয়

Back To Top