উদয় বসু: তৃণমূলের একনিষ্ঠ সমর্থক। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির ভক্ত। তাই শত বারণ সত্ত্বেও দিদির ডাকে একুশে জুলাইয়ের সভায় যেতে বাসে উঠে বসেন পূর্ব বর্ধমানের রেখা সরকার। সঙ্গে ছিলেন স্বামী অধীর সরকার। ছিল তাঁদের ছেলে অসীমও। তার বয়স ৮। বরানগর আইএসআইয়ের কাছে আসতেই বাসের মধ্যে কন্যাসন্তান প্রসব করেন রেখা। সঙ্গে সঙ্গে বাসের যাত্রী অন্য তৃণমূল কর্মীরা মা–মেয়েকে ঘিরে রাখেন। ছুটে আসে পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে দু’‌জনকে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসূতি বিভাগে তাঁদের ভর্তি করা হয়। সেখানেই লোকজন সদ্যোজাত ওই কন্যাশিশুর নাম দেয় ‘‌একুশী’‌। কেউ কেউ নাম দেয় অগ্নিকন্যাও। মেয়েটি পরিণত নয়, তাই চিকিৎসার জন্য আর জি কর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দু’‌জনেই ভাল আছেন বলে জানিয়েছেন বরানগর হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট শেখ সাইফুল ইসলাম। রেখার স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি অধীর এদিন জানান, পূর্ব বর্ধমানের ছোট নীলপুরের নতুন কলোনি এলাকায় তাঁরা থাকেন। তাঁরা বিজেপি–র সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করে তৃণমূলের পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে দেওয়াল লেখা, মিটিং–মিছিলে যোগ দেওয়া সবই করেন। দিদির ডাকে প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে পৌঁছে যান তাঁরা। রেখা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, এ বছর একটু সমস্যা দেখা দেয়। সবাই তাঁকে বুঝিয়েছিলেন এ বছর না যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনও কথাই শুনতে চাননি রেখা। রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ সমাবেশে যাওয়ার উদ্দেশে ছাড়া বাসে উঠে বসেন রেখা। ডানলপ পেরিয়ে বি টি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় রেখার প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আইএসআইয়ের কাছে বাসের মধ্যেই তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। নিয়ে যাওয়া হয় বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ডাঃ কৃষ্ণেন্দু দাস তাঁর চিকিৎসা করেন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন তৃণমূল নেতা অঞ্জন পাল, দিলীপনারায়ণ বসু। সমস্ত রকমের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, লড়াকু নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ‘‌বাংলার অগ্নিকন্যা’‌ বলে পরিচিত। তাই এই সদ্যোজাত কন্যার নাম দেওয়া হোক অগ্নিকন্যা। আর একুশের সভামঞ্চে যাওয়ার সময় ওই কন্যার জন্ম হওয়ায় অনেকে তার নামকরণ করে একুশী। এদিকে, বিজেপি ও অর্জুন বাহিনীর আস্ফালন উপেক্ষা করে ভাটপাড়া থেকেও দলে দলে তৃণমূল কর্মী–সমর্থকেরা একুশে জুলাইয়ের সভায় অংশ নেন। অংশ নিয়েছিলেন ব্যারাকপুর লোকসভার বীজপুর, হালিশহর, নৈহাটি, শ্যামনগর, ইছাপুর, পলতা, জগদ্দল, টিটাগড়, ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূল কর্মী–সমর্থকেরা। এছাড়া খড়দা, সোদপুর, আগরপাড়া, নিমতা, দমদম, বেলঘরিয়া থেকেও হাজার হাজার তৃণমূলকর্মী যান এদিনের সভায়।

জনপ্রিয়

Back To Top