তারিক হাসান- গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লেগে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। জখমও হচ্ছেন অনেকে। তবে এ সব দুর্ঘটনা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে ঘটছে তা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাইপ, সিলিন্ডারের ভাল্‌ভের ত্রুটি, বার্নার কিংবা ওভেনের নবে লিকের কারণে আগুন ধরছে। কয়েকদিন আগে কেষ্টপুরে দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়ও মাঝেমধ্যে রান্নার গ্যাস থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। কেন এমন হচ্ছে। সিলিন্ডারের ত্রুটির কারণে কি বিস্ফোরণ ঘটছে?
ইনডেনের ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি বিজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, সিলিন্ডার ফেটে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে না। যা হচ্ছে তার বেশির ভাগটাই পাইপে লিক, ওভেনের গোলমাল কিংবা সিলিন্ডারের ভাল্‌ভের ত্রুটির কারণে। কেষ্টপুরের দুর্ঘটনা সিলিন্ডার ও ওভেনের সংযোগকারী রাবারের পাইপে ফাটলের কারণে। অনেক সময় সিলিন্ডারে রেগুলেটর লাগানোর পর ভাল্‌ভের পিন নষ্ট হয়ে গিয়ে লিক হতে পারে। এটা অনেক সময় বোঝা যায় না। অনেকক্ষণ গ্যাস বেরিয়ে জমা হয়ে থাকার পর রান্নার জন্য বার্নার ধরাতে গেলে বিপত্তি হচ্ছে। ‘বুম’ শব্দে আগুন ধরে যাচ্ছে। অনেকে এটাকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলে ধরে নেন। অনেকটা দাহ্য গ্যাস জমে যাওয়ায় আগুন জ্বালালে ওরকম শব্দ হয়।
পরীক্ষা কি করা হয় না? বিজনবাবু জানিয়েছেন, প্রতিবারই সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সময় ভাল্‌ভের নিয়মমাফিক চাপ পরীক্ষা হয়। তবে সেটা গড়পড়তা। ফলে ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। সব থেকে ভাল হয় বাড়িতে ভর্তি সিলিন্ডার যিনি দিতে এসেছেন, তাঁকে দিয়েই সিলিন্ডারে রেগুলেটর লাগিয়ে, বার্নার ধরিয়ে তারপর নিভিয়ে একটু অপেক্ষা করা। রেগুলেটরও বন্ধ করে দিতে হবে। যদি দেখা যায় ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে আসছে, তা হলে বুঝতে হবে সিলিন্ডারের ভাল্‌ভ থেকে গ্যাস লিক করছে। এক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটারকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি সিলিন্ডারটি ঘরের বাইরে রাখাই ভাল। সিলিন্ডারটি ওজন করে দেখে নিলে ভাল হয়। ওজন কোনও কারণে কম হলে সিলিন্ডারটি ভাল করে যাচাই করা দরকার। কারণ সিলিন্ডার লিক হয়ে অনেক সময় ওজন কমে যেতে পারে।
পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, খরচ কিছু কম হবে এ জন্য বাইরের কাউকে দিয়ে সার্ভিসিং না করানোই উচিত। তাদের দায় থাকে না। অনুমোদিত লোকের দায়িত্ব থাকে। কখনও রেগুলেটার আংশিক ভেঙে গেলে কিংবা সিলিন্ডারে ঠিকমত লাগানো না গেলে বদলে নেওয়া উচিত। না হলে সামান্য অবহেলা থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top