নিরুপম সাহা, গাইঘাটা: শৈল শহর হিসেবে দার্জিলিং যেমন বিখ্যাত, তেমনই বিখ্যাত কমলালেবুর জন্য। সেই কমলালেবু যদি দার্জিলিংয়ের বদলে সমতলে ফলানো যায়, তাহলে তো কথাই নেই। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করছেন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার কৃষক ইসাত আলি মন্ডল। সম্পূর্ণ বিপরীত আবহাওয়ায় বিকল্প চাষ হিসেবে কমলালেবু ফলিয়ে তাক লাগিয়েছেন তিনি।
মূলত শীতপ্রধান এবং পাহাড় অঞ্চলের ফল কমলালেবু। পাহাড় এবং সমতলের মাটির মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। ফলে সম্পূর্ণ বিপরিত পরিবেশ, পরিস্থিতিতে কমলালেবুর চাষ প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবেই দেড় বছর আগে শুরু করেছিলেন গাইঘাটার জয়তারা গ্রামের কৃষক ইসাত আলি। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ইসাত গতানুগতিক চাষে সেইভাবে লাভের মুখ দেখতে পাননি। ফলে লাভের আশায় বিকল্প চাষের সন্ধান করছিলেন তিনি। আর তখনই কমলালেবু চাষের কথা মাথায় আসে তঁার। সেই সময় তিনি নদীয়া জেলার একটি নার্সারি থেকে কমলা এবং মুসম্বি লেবুর চারা কিনে আনেন। এরপর তিনি দু’‌বিঘা জমিতে তিনি মুসম্বি এবং পরীক্ষামূলকভাবে দু’‌টি কমলালেবুর চারা বসান। প্রয়োজনমতো গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। এইভাবে ১৭ মাস পর সাফল্যের প্রথম ধাপ পার হন। ইসাত আলি জানালেন, ‘‌এই ১৮ মাস সময়কালের মধ্যে ২টি কমলালেবুতে মোট ৩০০টি লেবু ফলেছে। বিপরিতধর্মী মাটি এবং আবহাওয়া অনুযায়ী ফলনে বেশ ভালই হয়েছে। মিষ্টিও হয়েছে।’‌ আগামীতে এক বিঘা জমিতে কমলালেবু চাষ করার ইচ্ছে রয়েছে তঁার। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি দপ্তরের সহ–অধিকর্তা অরুণকুমার দাস জানান, ‘‌দার্জিলিংয়ের মতো পাহাড়ি অঞ্চলের তাপমাত্রার সঙ্গে গাইঘাটার মতো সমতলের তাপমাত্রার আকাশ–পাতাল পার্থক্য রয়েছে। 
এর পাশাপাশি আরও বড় বিষয় মাটি। সমতলের দোঁয়াশ মাটিতে কমলালেবু ফলিয়ে যদি দার্জিলিং এর মতো গুণগত মান পাওয়া যায়, তাহলে তারমধ্যে যথেষ্ট অভিনবত্ব থাকবে। ইসাত আলির এই কমলালেবু চাষের সম্পূর্ণ সাফল্য এলে বিকল্প চাষ হিসেবে আমাদেরও এ ব্যাপারে আরও ভাবনাচিন্তা শুরু করতে হবে। তারজন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’‌‌

গাইঘাটায় ইসাত আলির কমলালেবু চাষ। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top