চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, পূর্বস্থলী: গাছ রক্ষায় মেলা। মেলায় যোগদানের শর্ত একটিই। দুটি গাছ কিনতেই হবে। সেই গাছ যত্ন করে বড় করতে হবে। আকাশচুম্বী করে তুলতে হবে। তার ফলে চওড়া হবে সবুজের সামিয়ানা। 
ইতিহাস আর পুরাণের সৌরভ মাখা এমনই অভিনব মেলাটি হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। ভাগীরথী লাগোয়া ব্যান্ডেল–কাটোয়া রেলপথের পূর্বস্থলীর ভাণ্ডারটিকুরি স্টেশনের কাছে ব্রহ্মাণী মন্দিরে। মেলায় ভিড় জমান পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, হুগলি জেলা–সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লাখের ওপর মানুষ। সকলেই গাছ কেনায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার নার্সারির মালিক আম, জাম, জারুল, কঁাঠাল, জামরুল, আমলকী, বকুল–সহ হরেক গাছের চারার সম্ভার সাজিয়ে বসে পড়েন। এলাকার বাসিন্দা ইতিহাস গবেষক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ দেবাশিস নাগ, শিক্ষক দীপঙ্কর চক্রবর্তীরা বলছিলেন, ‘এখনকার মতো তখন তো গাছ লাগানোর এত প্রচার, এত সচেতনতা দেখা যেত না। তাই ধর্মের মোড়কে গাছ কেনা ও লাগানোকে পুণ্যকর্ম বলে প্রচার করা হত। তাতে কাজও হত।’ 
১৮১৯ সালে সমাচার দর্পণ খবরের কাগজেও এই মেলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফি–শ্রাবণের সংক্রান্তির দিন থেকে শুরু সপ্তাহব্যাপী এই গাছ মেলায়। একটি বিশাল গাছ ও মনসা পুজো হয়। যে মনসা মূর্তি এ বছর পুজো হয়, সেটি বিসর্জন করা হয় না। পরের বছর নতুন মনসা মূর্তির পাশে পুরনো মূর্তিটিও পুজো করা হয়। 
কথিত আছে বাণিজ্যে যাওয়ার পথে চাঁদ সদাগর এখানে দিশারী মা নামে এক স্থানীয় দেবীর পুজো করেছিলেন। সর্পদষ্ট স্বামী লখিন্দরকে নিয়ে বেহুলা এই এলাকার নদীপথেই গিয়েছিলেন। এই এলাকার কালীদহের বিল, চাঁদের বিল–সহ বিভিন্ন জলাশয় সেই নজির বহন করছে। প্রাচীনকালে এই মেলা প্রাঙ্গণে শাস্ত্র নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে লড়াই হত। তা দেখতে দূরদূরান্তের প্রাজ্ঞ–বিজ্ঞের ভিড় জমত। 

জনপ্রিয়

Back To Top