সোমনাথ নন্দী,ঝাড়গ্রাম: ফাল্গুনীর চলে যাওয়ার খবরে মন খারাপ ঝাড়গ্রামের। বৃহস্পতিবার কুনকি হাতি করতে উত্তরবঙ্গের গরুমারা জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হল তাকে। দলমার এই হস্তি শাবকের এতদিন ঠিকানা ছিল ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ক। প্রায় সাড়ে তিন বছরের এই পোষমানা বাচ্চা হাতিটি উত্তরবঙ্গে চলে যাওয়ার খবরে অনেকের মন ভারী। 
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বঁাকুড়ার বড়জোড়া ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকায় একপাল হাতি অসুস্থ হয়। তখন এক বছরের হস্তি শাবককে ছেড়ে দিয়ে চলে যায় ওই দলটি। এলাকার মানুষ দেখতে পেয়ে বনবিভাগে খবর দেয়। তখন বনকর্মীরা এসে উদ্ধার করে ওই হস্তি শাবককে। তার পর তাকে আনা হয় ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে। কাঠের খঁাচার মধ্যে রেখে চলে পরিচর্যা। প্রাণী চিকিৎসক চঞ্চল দত্তের চিকিৎসার পাশাপাশি সেবা শুশ্রূষা পেয়ে দ্রুত সুস্থ হয় ওঠে। ফাল্গুন মাসে ওই হস্তি শাবক আসায় পার্কের কর্মীরা তার নাম রাখেন ফাল্গুনী। ধীরে ধীরে পোষ মানে সে। পার্কের কর্মী শিবপ্রসাদ মাহাতোর বাধ্য হয়ে যায় ফাল্গুনী। তাকে দেখতে ঝাড়গ্রাম পার্কে দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। 
দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে তিন বছর জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে থাকার পর বৃহস্পতিবার ফাল্গুনীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ঝাড়গ্রাম প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের সহঅধিকর্তা চঞ্চল দত্ত। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও বাসবরাজ হোলেইচ্চি বলেন, ‘‌ফাল্গুনী বড় হচ্ছে। ওকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য উত্তরবঙ্গের গরুমারায় পাঠানো হচ্ছে।’ জানা গেছে, কুনকি করে ফাল্গুনীকে বনবিভাগের কাজে লাগানো হবে।

ফাল্গুনীকে পরীক্ষা করছেন চিকিৎসক চঞ্চল দত্ত। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top