আজকালের প্রতিবেদন: দেশের মধ্যে প্রথম করোনা হাসপাতাল গড়ে তুলছে রাজ্য সরকার। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে শুধুমাত্র করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সোমবার থেকে সুপারস্পেশ্যালিটি ব্লকে শুরু হচ্ছে করোনা রোগী এবং সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা পরিষেবা। এ কথা জানিয়ে কলকাতা মেডিক্যালের সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘‌এখন ৩০০ শয্যার সুপারস্পেশ্যালিটি ব্লকে আমরা করোনা রোগী এবং সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা পরিষেবা চালু করব। চেষ্টা করছি সোমবারের মধ্যে চালু করার। প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। স্বাস্থ্য ভবনে সমস্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দিচ্ছি। আগামী দিনে রোগী বাড়লে সমস্যায় যাতে না পড়তে হয় সেই কারণে আমরা অন্যান্য বিল্ডিংও খালি করছি। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালে সরানো হচ্ছে। কম আশঙ্কাজনক রোগীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’‌ হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবারের মধ্যে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং ভেন্টিলেশন–সহ পরিষেবা চালু হচ্ছে। ধাপে ধাপে ৩০০০ শয্যার চিকিৎসাও শুরু হবে। সেই কারণে নতুন করে রোগী ভর্তি নেওয়া হবে না। শোনা যাচ্ছে, জরুরি বিভাগও বন্ধ করে দেওয়া হবে। সুপার বলেন, ‘‌করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হলে অন্য চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে। সেই কারণে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌ 
করোনা রোগে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের আলাদা আলাদা হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, এক ছাদের তলায় চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে কলকাতা মেডিক্যালে। থাকবে জেনারেল আইসোলেশন ওয়ার্ড, আক্রান্তদের জন্য পৃথক কেবিন, ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত টিম সর্বক্ষণ থাকবেন।  
এখন ৩০০ শয্যা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত এবং সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা কেন্দ্র। হাসপাতালের ৯ ‌তলার যে সুপারস্পেশ্যালিটি ব্লক রয়েছে সেখানে দুটি তলা রাখা হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য। বাকি ৭টি তলায় করোনা সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা করা হবে। নতুন হস্টেলও বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই সুপারস্পেশ্যালিটি ব্লকে করোনা সংক্রান্ত সব ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন ২,২০০টি শয্যা রয়েছে মেডিক্যালে। সেটি বাড়িয়ে ৩,০০০ করার পরিকল্পনা। মেডিক্যালের সুপার জানিয়েছেন, ‘পুরো হাসপাতালটি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হবে কি না সে–বিষয়ে ‌এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’‌ 
এখন সরকারি স্তরে করোনা–আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে। সন্দেহভাজনদের চিকিৎসাও চলছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। কিন্তু এখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা ২২। ফলে আইডি–তে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top