দেবব্রত ঘোষ, আসানসোল: আসানসোলে তৃণমূলের কর্মিসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আসানসোলে অগ্নিকন্যা ভবনে ওই কর্মিসভার মঞ্চ থেকেই তিনি সরাসরি বিজেপি সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে এক হাত নিলেন। বললেন, ‘‌বাবুল সুপ্রিয় হচ্ছে মাইগ্রেটেড বার্ড। সুখের সময় আসে আর দুখের সময় দেখা যায় না! পি চিদম্বরমকে বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে। এভাবে ইডি, সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে চমকিয়ে রাখা নীতিগতভাবে অন্যায়। আপনারা একসঙ্গে থেকে জনগণের সেবা করুন। কর্মীদের মধ্যে যদি ইগো থাকে সব ভুলে মিলেমিশে জনগণের সেবায় মন দিন।’‌
কর্মিসভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন আসানসোল পুুরনিগমের মেয়র এবং পশ্চিম বর্ধমান তৃণমূলের সভাপতি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চ্যাটার্জি, বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়, জেলা চেয়ারম্যান ভি শিবদাসন এবং ডেপুটি মেয়র তবস্‌সুম আরা প্রমুুখ। ফিরহাদ বলেন, ‘‌নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আসানসোলের ফল অন্যরকম হত। এখানে আমাদের সংগঠন, লোকবল সবই আছে। এখানকার পুরনিগম আমাদের। জেলা পরিষদ আমাদের। বিধায়করা আমাদের। তাই ফল খারাপ হওয়ার কথা নয়। আমাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। আরও মিশতে হবে মানুষের সঙ্গে। আসানসোলে যে কোনও নির্বাচনের আগে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এখানে দাঙ্গা লাগার পরিস্থিতি তৈরি করে। এরপর তার জেরে নির্বাচন জিততে চায়। আমরা সবরকমের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি।’‌ তিনি বলেন, ‘‌‌দিদিকে বলো কর্মসূচি ভীষণভাবে সফল। আসানসোল থেকেও বহু ফোন এসেছে। মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি অনেক সমস্যা সমাধানও করেছেন ইতিমধ্যে। বিজেপি–‌র একটা অদ্ভুত ব্যাপার, ওরা আমাদের যাদের চোর বলে বদনাম করে, তাদেরই আবার গেরুয়া ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে শুদ্ধ করে নিয়ে নেয়। আবার তারাও সুবিধা করতে না পেরে আমাদের দরজায় চলে আসে। এটাই বিজেপি–‌র রাজনৈতিক ছক।’‌ শ্রমমন্ত্রী এবং আসানসোল উত্তরের বিধায়ক মলয় ঘটক বলেন, ‘‌ নেতাদের আরও জনসংযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’‌‌

 আসানসোলে কর্মিসভায় ফিরহাদ হাকিম।ছবি: জয়ন্ত সাহা

জনপ্রিয়

Back To Top