‌স্বদেশ ভট্টাচার্য, বাদুড়িয়া: শনিবারের বারবেলা!‌ ভরদুপুরে কোথাও কিচ্ছু নেই। ঘরের মধ্যে দপ্‌ করে জ্বলে উঠল আগুন‌!‌ হকচকিয়ে গেলেন অনন্ত দাস ও দুর্গা দাস। দুপুরের খাওয়া সেরে সবে একটু গা এলিয়ে দিয়েছেন প্রৌঢ় দম্পতি। যথারীতি আগুন নিভেও গেল। কিন্তু মনের মধ্যে খটকা থেকে গেল। কেন এমনটা হল?‌ শনিবারের পর রবিবারও সকাল থেকেই আবার আগুন। ঘরের মাঝখানে, দেওয়ালে, রান্না ঘরে, খাটের বিছানায়, আলনায় যখন তখন আগুন জ্বলে উঠছে দপ্‌ করে। এই ঘটনায় তোলপাড় উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার দক্ষিণ চাতরা গ্রামের দাসপাড়ায়। শয়ে শ‌য়ে লোক এসে ভিড় করছে অনন্ত দাসের বাড়িতে।
এদিন দক্ষিণ চাতরা দাসপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেল মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে বাড়িটি ঘিরে। ভেতরে ঢোকা দায়। বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরাও চলে এসেছেন। ২ ছেলে, বউমা, নাতি–নাতনিদের নিয়ে সংসার অনন্ত দাসের। ছোট ছেলে তঁার পরিবার নিয়ে বেড়াতে গেছেন। বাড়িতেই মুরগির পোল্ট্রি রয়েছে। অনেকগুলো দুধেল গাইও আছে। গোরু ও মুরগির কারবার। বাড়িটি পাকা। ইটের দেওয়াল, খানিক ছাদ, খানিক টালির চাল। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখা গেল খাটের ওপর বিছানার চাদর মাঝখানে পুড়ে গেছে। ঘরের আলনায় কাপড় কিছুটা ঝলসে গেছে। বাড়ির লোকেদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। অনন্তবাবুর বড় বউমা মৌমিতা দাস বলেন, ‘‌আজ সারা দিনে ১০/‌১২ বার ঘরে আগুন জ্বলে উঠেছে। এই তো দুপুরে বাচ্চার জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে গ্যাস জ্বালতেই গ্যাসের পাশে দপ্‌ করে আগুন জ্বলে উঠল। তাড়াতাড়ি গ্যাস নিভিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি। জানি না রাতে ঘরে কাটাব কী করে!’‌ পুলিশ এসেছিল। 
গোবরডাঙা থেকে বিজ্ঞান কর্মীদের একটি দল এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। তাদের ব্যাখ্যা, এটা অলৌকিক কিছু ব্যাপার নয়।  চারদিকে যেভাবে গোবর এবং কলাগাছ কাটা পড়ে আছে, তাতে মিথেন গ্যাস তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। স্থানীয়রা বিজ্ঞান কর্মীদের যুক্তি মানতে রাজি নন। অনেকে বিভিন্ন বিধান দিচ্ছেন। নানা গুজব, অলৌকিক, ভৌতিক ব্যাখ্যায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top