‌প্রদীপ দে, বহরমপুর, ১৩ আগস্ট- নিরাশ্রয় এক সংখ্যালঘু গৃহবধূ ও দুই সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে নিজের বাড়িতে ঠঁাই দিয়েছিলেন হরিহরপাড়ার চোঁয়া গ্রামের দুঃস্থ পুরোহিত সুভাষ রায়চৌধুরি। গঁায়ের মোড়লদের চোখ রাঙানিকে উড়িয়ে সুভাষ আজও তঁার ভিটেয় রেখেছেন সখিনা বিবি ও তঁার দুই ছেলেমেয়েকে। এবার ইদের দিন পালন হল ব্রাহ্মণের বাড়িতেই। 
সোমবার ছিল ইদ। তার আগের দিন থেকেই মন খারাপ সখিনার। নতুন জামাও কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সেখানে ইদ পালন করবেন কীভাবে। পুরোহিতের বাড়িতেও তো নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। সখিনার দুঃখ, কষ্ট বোধ হয় বুঝতে পেরেছিলেন বৃদ্ধ সুভাষ। সেজন্য সোমবার সকাল থেকেই বাড়িতে হল ইদের পরব পালন। সকালে সখিনা ও তঁার দুই ছেলেমেয়ের পাতে পড়ল পরোটা পায়েস। দুপুরে মাংস–ভাত। চেটেপুটে খেল ছেলেমেয়ে দুটি। আর এসব দেখে সখিনার চোখে জলের ধারা। সখিনা বলে ওঠেন, ‘‌আমি ভাবতেই পারিনি ইদ করতে পারব। কিন্তু এই বাবা–মা সেটা করলেন। পায়েস, পরোটা, লাচ্চা, সিমুই সব ছিল। আমি এবার ইদে যা পেলাম, সেটি আমার জীবনের সেরা।’‌ সুভাষের কথায়, ‘‌নিজের ধর্ম পালন করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। ভাগ্যের পরিহাসে সে ঘরছাড়া। আমার কাছে মেয়ের মতো আছে। আনন্দ তো সবার। একসঙ্গে আনন্দ করে ইদ পরব পালন হয়েছে।’‌ পুরোহিতের স্ত্রী ইলাদেবী বলেন, ‘‌যতটুকু পেরেছি করেছি। পরবের দিন মুখ কালো করে ঘুরে বেড়াবে, এটা কি দেখতে ভাল লাগে।’‌ 
ইতিমধ্যেই হরিহরপাড়া ব্লক প্রশাসন সুভাষবাবুর পাশে দঁাড়িয়েছে। সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন। কলকাতা থেকে তঁাদের পাশে দঁাড়িয়েছে ভাষা ও চেতনা সমিতি। এসেছিলেন নাট্য ব্যাক্তিত্ব প্রবীর গুহ, আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যরা। এই মুহূর্তে দরকার সখিনার মাথা গোঁজার একটা স্থায়ী আস্তানা। সখিনা বা সুভাষের কারও বিপিএল কার্ড নেই। যদি পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিস থেকে ওই কার্ড করে দেয়, তাহলে অনেক সরকারি সাহায্য পাবে। সখিনার আবেদন, ‘‌সরকার যদি মাথা গোঁজার একটা ঘর করে দেয়, খুব ভাল হয়।’‌ সখিনাকে বিডিও অফিস থেকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। হরিহরপাড়া ব্লক অফিস ও থানা সব সময় ওই পরিবারের খোঁজখবর নেয়।

ছেলে কোলে সখিনা। রয়েছেন পুরোহিতের স্ত্রী–মেয়েও। ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top