অর্ঘ্য দে,শিলিগুড়ি: মাঝারি ভূমিকম্পে নড়ে উঠল অসমের কোকরাঝাড়। আর তার রেশ উত্তরবঙ্গ হয়ে পৌঁছল কলকাতা পর্যন্ত। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.৫। বেলা ১০টা ২০ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়। স্থায়ী ছিল ২০–‌২২ সেকেন্ড। আর এই কম্পনে কেঁপে উঠল রাজ্যের বিভিন্ন জেলা। এদিন কলকাতার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়। সূত্রের খবর, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল অসমের কোকরাঝাড় থেকে পশ্চিমে ১৩ কিলোমিটার গভীরে। বাংলা, অসমের পাশাপাশি বিহারেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে বেরোতে গিয়ে শিলিগুড়িতে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নাম সম্রাট দাস (‌২২)‌। অসমের কোকরাঝাড় ভূমিকম্পের উৎসস্থল হওয়ায় উত্তরবঙ্গে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল বেশি। ২৫ সেকেন্ড ধরে পায়ের তলার মাটি কাঁপতে থাকে। আতঙ্কের রেশ কাটতে সময় লেগে যায়। বহুতল থেকে আতঙ্কিত মানুষ নেমে আসেন নিচে। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অনেকে কম–‌বেশি আহত হয়েছেন। আতঙ্কে অনেকে রাস্তায় নেমে আসেন। বিভিন্ন অফিস নিমেষে খালি হয়ে যায়। কম্পন থেমে যাওয়ার পরেও অনেকক্ষণ ধরে রাস্তাতেই থাকেন বাসিন্দারা। গুজব ছড়িয়ে যায়, ‘‌আফটার শক’‌ আসতে পারে। তাই অনেকেই বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছিলেন না। জলপাইগুড়িতে মর্নিং স্কুলগুলিতে তৎক্ষণাৎ ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
আলিপুরদুয়ার জেলা লাগোয়া এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের প্রভাব ছিল বেশি। কম্পন ভালভাবেই টের পেয়েছে জেলা সদর–‌সহ জেলার ৬টি ব্লক। ডুয়ার্সকন্যা–‌সহ জেলার সব ক’‌টি বহুতল থেকে মানুষ আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কোচবিহারের হলদিবাড়িতেও আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন সকলে। সরকারি দপ্তর, ব্যাঙ্কে কাজে আসা মানুষজন রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। প্রাণভয়ে অনেকেই ছুটতে শুরু করেন। কোচবিহার, মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, মালদাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। সাময়িকভাবে মোবাইল সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে। ২০১১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বকর্মা পুজোর সন্ধেয় সিকিমে ভূমিকম্প হয়েছিল। সেবার প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সমতলেও বেশ কিছু বাড়িতে ফাটল ধরেছিল। ২০১৫ সালে নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছিল উত্তরবঙ্গে। পরপর দু–‌‌তিনদিন হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে উঠেছিল ভূপৃষ্ঠ।

জনপ্রিয়

Back To Top