প্রদীপ দে, বহরমপুর: অবশেষে শনিবার সকালে পাওয়া গেল নৌকাডুবির ৩ নিখোঁজের মৃতদেহ। এদিন সকালে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা ভৈরবের নদের জল থেকে উদ্ধার করেন মৃতদেহ। 
যেখানে নৌকা ডুবেছিল, সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে প্রথমে পাওয়া যায় ৩০ বছরের গৃহবধূ জহিরা বিবির মৃতদেহ। তারপর তল্লাশিতে উঠে আসে জাহিরার ৪ বছরের মেয়ে উম্মেশ আলমার নিথর দেহ। মা মেয়ের বাড়ি কল্যাণপুর গ্রামে। তার কিছুক্ষণ পরেই বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মীদের তৎপরতায় পাওয়া যায় বছর দেড়েকের আলমিনের মৃতদেহ। 
বৃহস্পতিবার রাতে ডোমকলের মধ্যগরিবপুর ফেরিঘাটে নৌকাডুবি হলে নৌকার সব যাত্রীদের উদ্ধার করা হলেও ৩ জনের কোনও খোঁজ ছিল না। শুক্রবার সারাদিন তল্লাশি চালালেও পাওয়া যায়নি। এদিন জেলাশাসক পি উলগানাথন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌৩ জনই নিখোঁজ ছিল। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে বহরমপুর মেডিক্যালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’‌
মৃতদের পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের ‘‌সমব্যথী’‌ প্রকল্পের ২ লাখ করে টাকা জেলা প্রশাসন দিয়ে এসেছে। মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। 
এদিকে, ডোমকলের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জেলা প্রশাসন জেলার নদীর বিভিন্ন ফেরিঘাট খতিয়ে দেখে। ৫১টি ফেরিঘাট চলে প্রশাসনের অনুমতিতে। তবে বিনা অনুমতিতেও বেশ কিছু ঘাট চলে। এ ঘাটও অবৈধ ছিল। ৫১ টি ঘাটের জন্য পরিবহণ দপ্তর ১০ লাখ করে টাকা বরাদ্দ করেছে। 
ওই টাকায় লাইফ জ্যাকেট, ঘাটে সিসিটিভি ক্যামেরা, পানীয়জল, আলো ও মাইক নদীর ঘাটে থাকবে। ৬৮ জন ‘‌সাথী’‌ কর্মী রাখা হয়েছে। অভিযোগ, বেশিরভাগ ঘাটে নিয়ম মানা হয় না। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের টনক নড়ে। তারপর আবার একই অবস্থা। এদিন মৃতদের বাড়ি যান ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিক হোসেন। আর্থিক সাহায্যও করেন।
 

জনপ্রিয়

Back To Top