চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, পূর্বস্থলী: ফি–শীতে ভিনরাজ্য ও ভিন দেশের নানান প্রজাতির পরিযায়ী পাখি ভিড় জমায় পূর্বস্থলীর চুপিতে ভাগীরথীর পরিত্যক্ত খাত রাজারচরে। সেই অতিথি পাখিদের ঘরকন্নাকে এবার পর্দায় বাঁধতে চান অমিয় জানা। কাটোয়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মী অমিয় জানার ফোটোগ্রাফির নেশা। কাজের ফাঁকে ক্যামেরা কাঁধে বেরিয়ে পড়েন অমিয়বাবু। বনবাদাড় ঢুঁড়ে ক্যামেরা ছোটে অমিয়বাবুর। সেই ক্যামেরা এবার রাজার চরে তাক করবে পরিযায়ী পাখিকুলের চারমাসের সংসারকে বাঁধতে।
আজ, শুক্রবার থেকে কর্মসূচি শুরু করতে চলা অমিয়বাবু চান, এখানকার পরিচিতি আরও ছড়াতে তথ্যচিত্র তৈরি করতে। ছাড়িগঙ্গা নামে খ্যাত ভাগীরথীর এই পরিত্যক্ত খাতে পরিযায়ী পাখিদের সংসারে ‘শামিল’ হতে আসেন বহু পাখিপ্রেমী, পর্যটক, শিক্ষার্থী, গবেষক। অনেকে আসেন এখানে চড়ুইভাতি করতে। পাখিদের কলকাকলি, ওড়াউড়ি তাদের বাড়তি পাওনা।
গত ১৫ বছর ধরে পূর্বস্থলী পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সহযোগিতায় ঢেলে সাজানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। পিকনিক স্পট, যোগাযোগকারী রাস্তা, কটেজ, ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাবিহারের বন্দোবস্ত, সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি পুলিস-প্রশাসনের সাহায্যে পাখি শিকারিদের ও মাছ শিকারিদের রোখা, শব্দদানোর দৌরাত্ম্য বন্ধ করা-সহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, প্রত্যেক বছর পাখির সংখ্যা কমছে। এখানকার পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে কাজ করা এলাকার বাসিন্দা নবিবক্স শেখ জানান, ‘এখানে আগে ফি–বছর হাজার দশেকেরও বেশি বিদেশি পাখি এখানে আসত। গতবছর গণনা করে দেখা গিয়েছে ৭৫টি প্রজাতির মোট হাজার তিনেকের কাছাকাছি পাখি এসেছে।’

 

পূর্বস্থলীর রাজারচরে পরিযায়ী পাখিদের ভিড়। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top