যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা: সামনে দিকে রুমাল দিয়ে শক্ত করে হাত বাঁধা। ওড়নার ফাঁসে ঝুলছে বছর উনিশের বধূর দেহ। পাশেই খাটে বসে মোবাইল দেখতে ব্যস্ত তাঁর চার বছরের শিশুপুত্র। ঘরের দরজা ভেজানো। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি খুনের ঘটনা। কিন্তু খুনি কে? তার খোঁজে তদন্ত নেমেছে পুলিশ। 
বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে নিউ দিঘায়। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাস ডিপোর কাছে একটি বেসরকারি হোটেলে। মৃত বধূর নাম পিয়ালি দেঁড়ে। বাড়ি হুগলির ডানকুনি থানার ক্ষুদিরাম বসু পল্লীতে। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধেয় পিয়ালির সঙ্গে তার ৪ বছরের শিশুপুত্র দেবজ্যোতি ছাড়া আর কেউই ছিল না বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিক শঙ্কর জানা। হোটেলে কোনও সিসি টিভি ক্যামেরা না থাকায়, রাতে কে এসেছিল পিয়ালির ঘরে তা বোঝারও উপায় নেই। তাছাড়া রাতে মালিক–কর্মচারীরাও কেউ ছিলেন না হোটেলে। ফলে, খুনি ধরতে পুলিশের এখন একমাত্র ভরসা পিয়ালির শিশুপুত্র দেবজ্যোতি। তার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ খুনির পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক করা হয়েছে হোটেল মালিককেও। কাঁথির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক চক্রবর্তী বলেন, ‘‌আমাদের ধারণা পিয়ালি আর দেবজ্যোতির সঙ্গে অন্য কেউ এসেছিল। সে অন্য জায়গায় ছিল। পিয়ালি এবং দেবজ্যোতির পরিচিত সেই ব্যক্তি মধ্যরাতে হোটেলে আসে এবং পিয়ালি তাকে দরজাও খুলে দেয়।’‌ দেবজ্যোতি ঘুমিয়ে পড়ার পরই পিয়ালিকে খুন করা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ঘুম ভেঙে বিষয়টি দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় ৪ বছরের দেবজ্যোতি। ঘটনার খবর পেয়ে দিঘা আসেন পিয়ালির পরিবারের লোকেরা। পুলিশ তঁাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে ‌‌এই ঘটনার পিছনে পরকীয়ার যোগ রয়েছে। চন্দনপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ পাল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ তার খোঁজ করছে। হোটেল মালিক শঙ্কর বলেন, ‘‌ছেলে কোথাও ঘুরতে পারে না বলেই তাকে নিয়ে দিঘা বেড়াতে এসেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন পিয়ালি। সন্ধেয় ঘরভাড়া দিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। সকালে হোটেলের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে, ঠেলা দিতেই দরজা খুলে যায়। তার পরই সামনে আসে ঘটনা।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top