যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা, ১ জুন- লকডাউনে জোর ধাক্কা খেয়েছে পর্যটনের বাজার। শুধু এই রাজ্য বা দেশ নেয়, অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এই পর্যটন মার খেয়েছে গোটা বিশ্বে। পর্যটনের হাল ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। লকডাউনের অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে। ৮ জুন থেকে খুলে যাচ্ছে রাজ্যের ভেতরের পর্যটন খাত। কিন্তু লকডাউন শিথিল করে হোটেল খোলা নিয়ে দোটানায় পড়েছেন দিঘা এবং সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতের ব্যবসায়ীরা। সরকার ছাড় দিলেও দিঘা, শঙ্করপুর এবং তাজপুরের হোটেল সংগঠকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত তাঁরা হোটেল খুলবেন না। 
সংখ্যায় কম হলেও ইতিমধ্যে দিঘা থেকে বাস (সরকারি) চলাচল শুরু হয়েছে। পর্যটন বাঁচাতে ছাড় মিলেছে হোটেল খোলার। তবু ৮ জুন থেকে হোটেল খোলা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনও পদক্ষেপই করতে চাইছেন না দিঘা, শঙ্করপুর এবং তাজপুর এলাকার অধিকাংশ হোটেল মালিক। তাঁদের কথায়, হোটেল খোলা বা চালুতে ছাড়ের কথা বলা হলেও এখনও কী স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বা কী কী নিয়ম মেনে হোটেল খোলা যাবে তা নিয়ে সরকারি কোনও নির্দেশ হোটেল মালিকদের বা হোটেল সংগঠনগুলোর কাছে এসে পৌঁছোয়নি। সে–কারণে কয়েক দিনের মধ্যে নিজেদের মধ্যে ও প্রশাসনের মধ্যে আরও একপ্রস্থ আলোচনার পর হোটেল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন তাঁরা। হোটেল চালু নিয়ে কী কী বিধিনিষেধ চালু করা হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ট্রেজারি) শেখর সেন। তিনি বলেন, ‘‌৮ তারিখ থেকে হোটেল খোলা নিয়ে কী কী বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে তা এখনও স্থির করা হয়নি। পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখে দ্রুতই জানিয়ে দেওয়া হবে যাবতীয় বিধিনিষেধের কথা।’‌ দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, ‘‌সরকারি নির্দেশ, স্বাস্থ্যবিধি ও সমাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্যে হোটেল মালিক ও কর্মীদের বলা হয়েছে।’‌
সৈকতের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে হোটেল খোলা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন হোটেল মালিকেরা। দিঘা–শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী জানান, রাজ্যে করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দিনের পর দিন। দিঘায় এখনও সেভাবে করোনা প্রকোপ দেখা যায়নি। হোটেল চালুর পর সংক্রমণ ছড়ালে পর্যটন শিল্পকে আবার বড় ধাক্কা সামলাতে হবে। যে কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দিঘা এবং শঙ্করপুরের হোটেলগুলোতে আগাম বুকিং আপাতত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাজপুরের হোটেল মালিক শান্তনু সাহা বলেন, ‘‌হোটেল খোলা নিয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ আমরা পাইনি। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’‌ তবে ৮ জুন থেকে সরকারি নির্দেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল খোলার জন্যে আগ্রহী মন্দারমণির ব্যবসায়ীরা। এখানে হোটেল বুকিংও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। মন্দারমণি বিচ হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেরার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবদুলাল দাসমহাপাত্র বলেন, ‘‌আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে হোটেলের মোট ঘরের ৫০ শতাংশ ঘরে পর্যটক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি দুটি রুম ভাড়া দেওয়া হবে না। সরকারের আদেশ অনুসারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হোটেল খোলা হবে। করোনার সঙ্গে আমাদের ঘর করতে হবে এই মানসিকতা নিয়ে আমরা হোটেল চালু করতে চাইছি। মন্দারমণি দিঘার মতো ঘিঞ্জি নয়। এখানে হোটেলের থেকে রিসর্ট বেশি। ফাঁকা এলাকা। হোটেলে ঢোকার মুখে বসানো হবে স্যানিটাইজার মেশিন। তাছাড়া হোটেল চত্বর যাতে সবসময় স্যানিটাইজ করা হয় তার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কোনওরকম সন্দেহ হলে পর্যটকদের হোটেলে থাকতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া একসঙ্গে আড্ডা দিতে দেওয়া হবে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top