আজকালের প্রতিবেদন,দিঘা: দিঘার হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে কালোবাজারি রুখতে এবার টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্য সচিব মলয় দে। বুধবার দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যসচিব‌কে তিনি বলেন, ‘‌টাস্ক ফোর্স তৈরি করুন। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার থেকে স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদদের রাখুন। দিঘার হোটেলগুলির বিরুদ্ধে দামের তুলনায় দ্বিগুণ–তিনগুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ বরাবরই আছে। হোটেল ভাড়া নিয়ে কার্যত কালোবাজারি চলে উৎসবের মরশুমে।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ যে এক শ্রেণির অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীদের দিকে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। 
শুধু দিঘা নয়, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর এলাকাতেও যাতে হোটেল ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌ডেটাব্যাঙ্ক করে ওয়েবসাইট তৈরি করুন।’‌ হোটেল মালিকদের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌দিঘা হল অল্প পয়সায় মধ্যবিত্তের গোয়া। মানুষ এখানে আসে। স্নান করে। মজা করে। সমুদ্রের পাশে বসে আনন্দ করে। চলে যায়। আগে শুধু শনি–রবিবার ভিড় হত। এখন সবসময় ভিড় হচ্ছে। অনেকে আগে থেকে হোটেল বুকিং করে আসেন। অনেকেই আবার সরাসরি দিঘায় চলে আসেন। কিন্তু হোটেল বুক না থাকায় অন্যায্য ভাড়া চাওয়া হয়। এর ফলে পর্যটকরা সমস্যায় পড়েন। হোটল ভাড়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। রেট বাড়াবেন না।’‌ বৈঠকে উপস্থিত দিঘা–শঙ্করপুর হোটেল সংগঠনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ সত্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এবার পুজোয় মানুষ কাশ্মীরে বেড়াতে যাবে না। দিঘায় আসবে। বেশি করে। এখন দিঘার জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে তাতে পর্যটকের সংখ্যাও বেশি হচ্ছে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী হোটেল মালিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌কাস্টমারকে লক্ষ্মী ভাবুন। একজন একবার এলে সে যেন বারবার আপনার হোটেলে আসে সেটা নজর রাখুন।’‌
এদিনের বৈঠক শুরুর আগেই মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এরপর একে একে জেলার মাছ, পান, কাজু শিল্পের উন্নয়নে যাবতীয় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। যাবতীয় সরকারি প্রকল্পের কাজের খতিয়ান দেখে কার্যত ক্লিনচিট দেন জেলা প্রশাসনকে। আগামী বছরের জুলাই মাসের দিঘা–শৌলা ৭ কিমির প্রস্তাবিত মেরিনা বিচের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। 
পরিবেশ রক্ষার পরামর্শ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‌নারকেল গাছের নার্সারি করে যদি কয়েক লক্ষ গাছ লাগানো যায়, তাহলে পরিবেশ বাঁচবে। দেখুন এটা যদি করতে পারেন আমরা বীজ দিয়ে দেব। চাষিরা চাষ করবে।’‌ অন্যদিকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ খান নবান্নে বলেন, ‘‌থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা থেকে বিশেষ ধরনের খেজুর গাছ ও নারকেল গাছের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের গাছ লাগিয়ে বাজ পড়া আটকাতে পেরেছে তারা।’‌ সূত্রের খবর বাজ পড়া ঠেকাতে খড়্গপুর ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত সাহায্য চাওয়া হয়েছে।   
এদিনের প্রশাসনিক সভায় রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও সাংসদ শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস–সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও জেলার আধিকারিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দিঘার পর্যটন কেন্দ্রকে আরও কীভাবে সাজিয়ে তোলা যায় সেই বিষয়ে বিশদে আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের বোঝান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন দিঘাকে মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে রাখতে হবে।‌‌
সম্প্রতি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়েছে দিঘার রাস্তা। প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা ঠেকাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্ৰশাসন বসে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনে একটা মাইক্রোফোন রাখুন। ওয়াচ টাওয়ার বানান। দুর্ঘটনাপ্রবণ জায়গার ওপর নজরদারি বাড়ান।’‌ বৈঠকে জন্মাষ্টমী প্রসঙ্গেও এদিন পুলিশকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিজি–‌কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘‌জন্মাষ্টমী ২৩ তারিখ। যা ট্র‌্যাডিশনাল, যা হয়ে থাকে, সেগুলো হবে। এটা সবার উৎসব। সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণভাবে হয়।’‌‌‌

প্রতীকী ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top