পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: এই রাজ্যের সেরা থানা কোন্‌টি?‌ ঝাঁ–চকচকে চেহারার ভবনের অভাব নেই। বড় বড় রহস্যের সমাধান করছে, এমন থানারও অভাব নেই। কখনও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে, কখনও সাহসিকতায় শিরোনামে উঠে এসেছে অনেক থানা। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে গেল ডুয়ার্সের ধূপগুড়ি। জলপাইগুড়ি জেলার এই থানা শুধু রাজ্যের সেরা নয়, দেশের ৪ নম্বর থানার স্বীকৃতি পেয়েছে। আর এই স্বীকৃতির কথা জানিয়েছে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ১)‌ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের কিনারা করা, ২)‌ চুরির সামগ্রী ফিরিয়ে দেওয়া, ৩)‌ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক, ৪)‌ অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা, ৫) পুলিসকর্মীদের ‌আচরণ, ৬)‌ সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ, ৭)‌ জমে থাকা মামলার সংখ্যা, ৮)‌ আধুনিক প্রযুক্তিকে কতখানি কাজে লাগানো হচ্ছে— এ সব বিষয় খতিয়ে দেখেই এই স্বীকৃতি। তিন বছর আগেই মডেল থানা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জঙ্গল ও চা–বাগান ঘেরা ধূপগুড়িকে। কেন্দ্রের ‘ব্যুরো অফ পুলিস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ দেশের বিভিন্ন থানায় গিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছেন। নভেম্বর মাসে এই সংস্থা সমীক্ষা চালাতে ধূপগুড়ি আসেন। বিভিন্ন দিকগুলি তাঁরা খতিয়ে দেখেন। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, সেরা থানার তকমাপ্রাপ্তির মধ্যে রাজারহাট ও নিউ টাউন থানার নামও ছিল। তবে শেষপর্যন্ত ধূপগুড়ি থানাকেই বেছে নিয়েছেন বিচারকেরা। সেরা দশের তালিকায় এই রাজ্যের একমাত্র ধূপগুড়িই আছে।

প্রথম স্থানে রয়েছে কোয়াম্বাটুরের আর এস পুরম থানা। হায়দরাবাদের পুঞ্জাগুট্টা থানা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় লখনউয়ের গুডাম্বা থানা। এরপরেই চতুর্থ স্থানে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকেই এ কথা ঘোষণা করা হয়েছে। একসময় এই থানা এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপের খবর পাওয়া যেত। এখন অনেকটাই শান্ত। গত এক বছরে কালীরহাট, পূর্ব মাগুরমারি, প্রধানপাড়া, ময়নাতলি, দক্ষিণ খুট্টিমারি, ঝালটিয়া–সহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করেছে ধূপগুড়ি থানা। কম্পিউটার সামগ্রী ও সেলাই মেশিন থেকে শুরু করে সিলিং ফ্যান–সহ বিভিন্ন চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে আসল মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ব্যাঙ্ক থেকে 
লুট হওয়া ৮৭ হাজার টাকাও উদ্ধার 
করতে পেরেছেন এই থানার অফিসারেরা। 
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তৈরি দেশের সেরা ১০টি থানার তালিকায় চতুর্থ স্থান পাওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমের কাছেই প্রথম জানতে পারেন থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত। বেশ আপ্লুত থানার বিভিন্ন আধিকারিক ও পুলিসকর্মীরা। আইসি বলেন, নিজের কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মান পেলে আলাদা গর্ব হয়। পাশাপাশি দায়িত্বও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়। আগামী দিনেও ধূপগুড়ি থানার এই সম্মান ও সুনাম ধরে রাখতে হবে।‌

 

 

ধূপগুড়ি থানার পুলিসকর্মীরা (ওপরে)। ধূপগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্তকে অভিনন্দন নাগরিকদের। ছবি:‌ পার্থসারথি রায়
 

জনপ্রিয়

Back To Top