‌বুদ্ধদেব দাস, ডেবরা: অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ। এজন্য সব রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এই আহ্বান জানালেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারী। তঁার মতে, রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ থামিয়ে আলোচনা হোক গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে। কীভাবে সেই কাজ করা যাবে, তা নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরা মতামত দিক। রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে সকলকে। 
লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ উত্তপ্ত কেশপুর। সঙ্ঘর্ষে এখনও পর্যন্ত  তৃণমূলের ১৫০–র বেশি কর্মী–সমর্থক আহত হয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন মহিলারাও। কেশপুরের বেশ কয়েকটি তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু তৃণমূল নেতা–কর্মী বিজেপি–র হামলায় ঘরছাড়া হয়েছেন। দেব বলেন, ‘‌আমি চাই মারামারি বন্ধ হয়ে কেশপুরে শান্তি ফিরে আসুক। অশান্তি বন্ধ হওয়া উচিত।’‌ রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের প্রতি বার্তা দিয়ে দেব বলেন, ‘‌যঁারা রাজনীতি করেন, তঁারা এটা ভাল করেই বোঝেন যে, রাজনীতি মানে এই নয় যে, কতজনকে মারলাম! দেশের জন্য কাজ করাই রাজনীতি।’‌ দেবকে বলতে শোনা যায়, ‘‌রাজনীতি মানে এটা হওয়া উচিত কীভাবে মানুষকে ভাল ভাবে রাখা যায়, কীভাবে এলাকার উন্নয়ন করা যায়। আমি সেই রাজনীতি বিশ্বাস করি।’‌
ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ জানান, ৬০ শতাংশ মানুষ নিজের পরিবার, নিজের সংসার, নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর ৪০ শতাংশ মানুষ রাজনীতি করেন। কিছু মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেন বাকিদের প্রভাবিত হতে হবে। এটা সকলের বোঝা উচিত। ভোট মিটে গেছে। এর পরও রাজনৈতিক সন্ত্রাস জিইয়ে রাখার মানেই হল উন্নয়নকে পিছিয়ে দেওয়া। শনিবার দুপুরে সাংসদ দেব ডেবরায় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় কাষ্ঠ ব্যবসায়ী সমিতির এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ৫০০০ চারা গাছ বিলি করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সেলিমা খাতুন, তৃণমূল নেতা বিবেক মুখার্জি, আলোক আচার্য, শীতেশ ধাড়া। এরপর ডেবরা বাজার থেকে রাধামোহনপুর পর্যন্ত জনসংযোগ যাত্রায় পা মেলান তিনি।

ডেবরার রাধামোহনপুরে জনসংযোগযাত্রায় সাংসদ দেব। শনিবার। ছবি:‌ স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top