বিজয়প্রকাশ দাস,পূর্ব বর্ধমান: বার বার নিষেধ করার পরও বাড়ির অমতে প্রেমপর্ব চালিয়ে যাচ্ছিল মেয়ে। পরিবারের সম্মানার্থে খুন (‌‘‌অনার কিলিং’‌) ‌করা হল অবাধ্য মেয়েকে। ট্রাকের মধ্যে গলায় নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে নিজের বাবা–দাদা। মৃতদেহ ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় বাবা মহম্মদ মুস্তাফা ও দাদা মহম্মদ জাহিদ। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। নিহত যুবতীকে উদ্ধার করে তার ঊরুতে মেহেন্দি দিয়ে লেখা ফোন নম্বর থেকে খুনের কিনারা করল জামালপুর থানার পুলিস। ঘাতক দু’‌জনকেই কলকাতার বেনিয়াপুকুর এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
৩১ আগস্ট সকালে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জামালপুর থানার নবগ্রামের ময়না এলাকা থেকে এক অপরিচিত যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস। মৃতার দুই ঊরুতে লেখা ৪টি ফোন নম্বর এবং ‘‌করণ’‌ নামে এক যুবকের নাম পাওয়া যায়। সেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিস তদন্ত শুরু করে। পৌঁছে যায় মহারাষ্ট্রে করণ কুমারের কাছে। সেখানে এই যুবক জরির কাজ করেন। পুলিস তার কাছ থেকেই যুবতীর নাম ও ঠিকানা পায়। তার নাম জাহানা খাতুন, বয়স ২৫। বাড়ি বিহারের মুজফ্‌ফরপুরের চকআলহাদাদ এলাকায়। কলকাতায় বেনিয়াপুকুর এলাকায়ও বাড়ি আছে।
পুলিসের তদন্তে জানা যায়, জাহানার সঙ্গে করণ নামে ওই যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তাঁর বাবা মহম্মদ মুস্তাফা। তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য জাহানাকে তার মাসির বাড়িতে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হত। এতেও তাদের ভালবাসা আটকাতে না পেরে ২৯ আগস্ট বিহার থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় জাহানাকে। বাবা মহম্মদ মুস্তাফা ও দাদা মহম্মদ জাহিদ কলকাতায় বেনিয়াপুকুর এলাকায় থাকে। এখানে তারা লরির ব্যবসা করত। তাই জাহানার হাত–মুখ বেঁধে সেই লরিতেই চাপিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে ৩০ আগস্ট রাতে কলকাতা 
থেকে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে পূর্ব বর্ধমানের দিকে আসে। পথে জামালপুরের নবগ্রামের কাছে তাকে পেছন থেকে নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতও করা হয়েছে। মৃত্যুর পর জাহানার মৃতদেহ জাতীয় সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। 

জনপ্রিয়

Back To Top