অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, দেউচা, ৯ জুলাই

 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্বপ্নের দেউচা–‌পাচামি কয়লা খনি প্রকল্প রূপায়ণে এলাকায় এসে সরাসরি স্থানীয় মানুষ ও পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রধান সচিব মনোজ পন্থ এবং রাজ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগমের (‌ডব্লুবিপিডিসিএল)‌ এমডি ড. পিবি সেলিম। বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার থানা এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠবে এই কয়লা খনি প্রকল্প।
মুখ্যমন্ত্রী ওই প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজ্যের সিনিয়র অফিসার এবং জেলার অফিসারদের নিয়ে আমার মুখ্য সচিব আজ এলাকার মানুষদের পুরো প্রকল্পটি বুঝিয়ে বলেছেন। সমস্ত প্রশ্নের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি জোর দিয়ে বলছি, ধাপে ধাপে দেউচা–পাচামি কয়লা ব্লকে আমরা এলাকার মানুষের সহযোগিতায় আধুনিক মাইনিং ব্যবস্থার সাহায্যে মডেল প্রকল্প তৈরি করব। পুরো প্রকল্পটিই হবে সময়সীমা মেনে। সঙ্কটের সময়েও বাংলায় উন্নয়নের চাকা থামবে না।’ 
কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের বক্তব্য, এটি হবে দেশের সব থেকে বড় এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি। এখানে মাটির নীচে ২.১ বিলিয়ন টন (২১০২ মিলিয়ন) কয়লা মজুত রয়েছে। যা তোলা হলে আগামী ১০০ বছর রাজ্যে কয়লার কোনও অভাব থাকবে না। এদিনের আলোচনা হয় মহম্মদবাজার থানার দেউচা গৌরাঙ্গিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে। জমি মালিক, সাধারণ গ্রামবাসী ও পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি–সহ প্রায় ৪০ জন এই সভায় হাজির ছিলেন। সভা শেষে মুখ্যসচিব জানান, পুজোর পরেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে। একসঙ্গে সাড়ে ৩ হাজার একর জুড়েই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে না। ধাপে ধাপে কাজটি হবে ৩–‌৪ পর্যায়ে। প্রথমে মাইনিং পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ৪০০, ৫০০ বা ৬০০ একর নিয়ে কাজ শুরু হবে।’‌
তিনি বলেন, ‘‌করোনার জন্য ৩–‌৪ মাস ধরে আমাদের উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ। কিন্তু রাজ্য সরকার করোনার সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশিই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজও শুরু করবে। দেউচা, পাচামি, দেওয়ানগঞ্জ ও হরিণশিঙার ৪টি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠবে দেউচা–‌পাচামি কয়লা খনি প্রকল্প। আমরা এসেছি সরাসরি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার জন্য। প্রাথমিক স্তরে মানুষের কাছে ব্যাপারটা যেন স্পষ্ট থাকে যে। প্রায় ৪০ জন স্থানীয় মানুষের প্রতিনিধি ছিলেন। আমরা তাঁদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। এটা কোনও প্রাইভেট মাইনিং নয়। রাজ্য সরকারই এই প্রকল্পটি করবে।’
মুখ্যসচিব আরও বলেন, ‘আমরা কোনও কোনও লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে আসিনি। এখানে মাটির নীচের সম্পদ মানুষের স্বার্থে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা স্পষ্ট করতে এসেছি।’‌ তিনি জানান, এই খনির কয়লা রাজ্যের পাওয়ার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের বিভিন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে। ওই বিদ্যুৎ অন্য কোথাও বিক্রি করা হবে না। ১০০ শতাংশ পুনর্বাসন করেই কাজ শুরু হবে। যাতে কোনও মানুষের স্বার্থ খর্ব না হয়। এই কাজটা সরকার করছে মানুষের স্বার্থে। মুখ্যসচিবের কথায়, ‘‌আলোচনায় কোনও বিক্ষোভের কথা কেউ বলেননি। ওঁদের আশার কথা বলেছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করেছি, সমস্ত সমস্যার সমাধান করেই কাজ শুরু করব। চেষ্টা করব পুজোর পরে কাজ শুরু করতে। কোথায় কী আছে, কত গভীরে কয়লা আছে, এইসব জানার কাজ শুরু করব পুজোর পরে। তারপর মাইনিং প্ল্যান অনুযায়ী কাজ এগোবে। আমরা অল্প অল্প করে পরিকল্পনা করছি। যেখানে সর্বাধিক মানুষের সংখ্যা দেড় হাজার থেকে ২ হাজার হবে।’‌
আলোচনার শেষে বীরভূম আদিবাসী গাঁওতার সম্পাদক রবিন সোরেন বলেন, ‘‌আমরা মুখ্যসচিবের কাছে জানতে চাইলাম, এই কয়লা খনি প্রকল্প কোথায় হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, জমির মালিকরা কত ক্ষতিপূরণ পাবে, চাকরি পাবে কিনা। উনি বললেন, সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবে।’‌

দেউচা–পাচামি কয়লা ব্লক নিয়ে বৈঠকের পথে মু্খ্য সচিব রাজীব সিনহা। পাশে জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা। বৃহস্পতিবার।  বীরভূমের মহম্মদবাজারে। ছবি: শান্তনু দাস

জনপ্রিয়

Back To Top