আজকালের প্রতিবেদন, কাটোয়া: লালের গরিমা ফিকে হয়ে গিয়েছিল ‘লালগোলা’ বর্ধমানে। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য পার্টি অফিস। কিন্তু গত ৫ মাসে পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে ছোট–বড় মিলিয়ে ৫০টির কাছাকাছি সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলা হয়েছে। নিয়ম করে চলছে দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আলাপ এবং আলোচনা। পার্টি অফিসগুলি খোলার ব্যাপারে কোথাও কোনও বাধাদান বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জেলার রাজনৈতিক মহল অবশ্য তৃণমূলের গণতান্ত্রিক মনোভাবের জন্যই সিপিএমের পার্টি অফিসগুলি খুলছে বলে মনে করছে।
সিপিএমের দলীয় কার্যালয় খোলা নিয়ে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথের প্রতিক্রিয়া, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিল সিপিএম। আমরা কেন ওদের পার্টি অফিস বন্ধ করতে যাব? বরং আমরা বহু জায়গায় দঁাড়িয়ে থেকে তাদের পার্টি অফিস খুলে দিয়েছি। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তাদের অফিসগুলোয় ধুনো দেওয়ার লোক ছিল না। তাই অফিসগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’ যদিও জেলাজুড়ে সিপিএমের একটার পর একটা পার্টি অফিস খোলা নিয়ে জেলা বিজেপি নেতা অনিল দত্তর কটাক্ষ, ‘কার সঙ্গে কার অঁাতাত এই ঘটনাতেই তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তৃণমূলের লোকেরা বিরোধীহীন করতে সিপিএমের অফিসগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন দিকে দিকে বিজেপি–র বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় অফিসগুলো খুলতে মদত দিচ্ছে। এভাবে বিজেপি–কে রোখা যাবে না।’
অবশ্য এ ব্যাপারে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিকের দাবি, ‘তৃণমূল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করে আমাদের একটার পর একটা পার্টি অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল। আর বিজেপি এখন দেশজুড়ে যে জনবিরোধী কাজকর্ম চালাচ্ছে, তাতে মানুষ ক্ষুব্ধ। ওই দুই দল সম্পর্কে মানুষের মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে। মানুষ বুঝছেন সিপিএম–ই একমাত্র দল, যারা মানুষের পাশে দঁাড়ায়, মানুষের সুখ–দুঃখের সমব্যথী হয়। আমাদের কার্যালয়গুলি খোলার ব্যাপারে মানুষের ষোলো আনা সমর্থন মিলছে।’
কেতুগ্রাম ১ নং ব্লকের কান্দরায় সিপিএমের লোকাল কমিটির অফিসটি ২০১১ সালের পর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪–র লোকসভা ভোটের সময়ে হপ্তাখানেকের জন্য খুলেছিল। তার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। সেই অফিস ফের খুলতে পেরে খুশি এলাকার সিপিএম নেতা ফারুখ মির্জা বলছিলেন, ‘অফিস খুলতে কেউ বাধা দেয়নি। কী কারণে জানি না। এখন নিয়মিত অফিস খোলা হচ্ছে। স্বাভাবিক কাজকর্ম হচ্ছে। আমরা খুশি। আমাদের কর্মী–সমর্থকরা নিয়মিত অফিসে যাওয়া–আসা শুরু করেছেন।’
শুধু কেতুগ্রামই নয়, বর্ধমান শহর থেকে শুরু করে কাটোয়া, কালনা, ভাতার, গলসি, জামালপুর, খণ্ডঘোষ, রায়না থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একটার পর একটা সিপিএমের পার্টি অফিস খোলার পিছনে দলের জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক–সহ বিভিন্ন নেতার মস্তিষ্ককে কৃতিত্ব দিচ্ছেন দলের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা। কোনওরকম সংঘাতের রাস্তায় না হেঁটে ধীরে ধীরে মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করে ভরসা আদায় করে জমি তৈরি করেছেন অচিন্ত্যবাবুরা। আর এটা করতে পারছেন ‘বিজেপি–র বাড়াবাড়ি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য’, বলছেন সিপিএম নেতারা। আর মনে মনে সঙ্কল্প তৈরি করছেন, বিজেপি–কে যেকোনও মূল্যে রুখতেই হবে। তবে দলের দপ্তর খোলার খবর শুনলেই পুলিশ হাজির হয়ে যাচ্ছে। যাতে কেউ কোনওরকম বাধা না দেয়।

জনপ্রিয়

Back To Top