তারিক হাসান- লকডাউন উপেক্ষা করে নেমেছিলেন রাস্তায়। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাওয়ায় অভব্য আচরণের পর এক পুলিশ কর্মীর উর্দিতে লালা এবং লিপস্টিক মাখিয়ে দিলেন এক তরুণী। তার গালে একটি ফোড়া ছিল। সেটিও ঘষে দেয় উর্দিতে। রক্ত বেরিয়ে ইউনিফর্মে লেগে যায়। পুলিশের উদ্দেশে বলতে থাকে, ‘‌এই যে করোনা, এই যে করোনা!‌’‌ ঘটনায় ওই তরুণী–সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লকডাউনের সরকারি নির্দেশিকা উপেক্ষা করে অনেকেই রাস্তায় বের হচ্ছেন। তাঁদের আটকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন পুলিশ–‌প্রশাসন। বুধবার বিধাননগরের পিএনবি মোড়ের কাছে গাড়ি থামিয়ে, পথচলতি মানুষকে কোথায় যাচ্ছেন, তা জানছিলেন পুলিশ কর্মীরা। সেই সময় একটি অ্যাপ ক্যাবকে আটকানো হয়। গাড়িতে চালক ছাড়াও ছিলেন এক তরুণী ও তাঁর বন্ধু। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী সুমন ভট্টাচার্য তাঁদের আটকে জানতে চান তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন। অভিযোগ, এরপরই গাড়িতে থাকা যাত্রীরা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন। গাড়ি থেকে নেমে এসে ওই তরুণী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারপরই আচমকা ছুটে এসে এক পুলিশ কর্মীর উর্দিতে লিপস্টিক ঘষে দেন। লালা লাগিয়ে দেন। তাঁর গালের ফোড়া ফেটে গিয়ে রক্ত লেগে যায় উর্দিতে। তরুণী বলতে থাকে, ‘‌এই যে করোনা, এই যে করোনা।’‌ ঘটনায় হতচকিত হয়ে যান পুলিশ কর্মীরা। তিনজনকেই আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত ওই তরুণীর নাম শর্মিষ্ঠা দেবনাথ। থাকেন পিকনিক গার্ডেন এলাকায়। তাঁর বন্ধু নির্মল বাল্মীকি ও গাড়িচালক জাভেদ খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই তরুণীর দাবি, তিনি একলা থাকেন। ওষুধ কিনতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ওষুধের খোঁজে পিকনিক গার্ডেন থেকে বিধাননগরে কেন তার সদুত্তর তিনি দেননি।
নির্দেশ উপেক্ষা করে বের হওয়াদের ঠেকাতে পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আর এ কাজ করতে গিয়ে অনেক জায়গাতেই পুলিশ কর্মীদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।‌‌‌

পুলিশকে শাসাচ্ছেন সেই তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top