আজকালের প্রতিবেদন- রাজ্যে যতরকম সামাজিক ভাতা প্রকল্প চালু রয়েছে, তার ২ মাসের টাকা প্রাপকদের একসঙ্গে দেওয়া হবে। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘রাজ্য সরকার ‌বিধবা, বয়স্ক মানুষ, শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প চালু করেছে। তাঁদের একসঙ্গে ২ মাসের ২০০০ টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। টাকাপয়সার অসুবিধা থাকলেও তাঁরা যাতে লকডাউনের কারণে সমস্যায় না পড়েন তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌
প্রায় ১ লক্ষ কৃষক মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান। ‘‌বন্ধু’‌ প্রকল্পে ৬০ বছরের বেশি বয়সের তফসিলি জাতির মানুষদেরও ১০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। ‘‌জয় জহর’‌ প্রকল্পে ৬০ বছরের বেশি আদিবাসী মানুষরাও ওই পরিমাণ টাকা পান। ‘‌ওল্ড এজ পেনশন’‌ প্রকল্পে ৮,৫০০ জন বৃদ্ধ ও অক্ষম মৎস্যজীবীকে ভাতা দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় ২৩ লক্ষ বৃদ্ধ–বৃদ্ধা, দুঃস্থ, শারীরিকভাবে অক্ষমদের অর্থসাহায্য করা হয়। এঁদেরও এককালীন ২ মাসের ভাতা দেওয়া হবে। মার্চ–এপ্রিল বা এপ্রিল–মে যে যেমন পাবেন তাঁকে সেভাবেই দেওয়া হবে। রাজ্যে কোনও মানুষের যাতে খাবারের অভাব না হয় তার জন্য রেশন কার্ডে বিনামূল্যে একবারে চাল, গম দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌একবারে এক মাসের চাল–গম দিয়ে দিলে রেশন দোকানে ভিড় কমে যাবে।’‌ ফুটপাথবাসীদের রাত্রিনিবাসে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই যাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌কলকাতা পুরসভার অধীনে ২৭টি রাত্রিনিবাস আছে। আপনারা সেখানে যান। মাছ–মাংস না খাওয়াতে পারলেও খিচুড়ি, তরকারি খাওয়াতে পারব। আপনারা নিরাপদে রাত্রিনিবাসে থাকুন। রাজ্যে বেশ কিছু কমিউনিটি কিচেন আছে। সেগুলো খোলা থাকছে। সেখানে খাবার পেয়ে যাবেন।’‌ বেশ কিছু গুরুদ্বারা অনেকের খাবারের দায়িত্ব নিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। রাজ্যের সব বিডিও, আইসি–দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌যদি খবর পান কেউ খাবার পাচ্ছেন না, তাহলে তাঁদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’‌ বলেন, এমন অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার রয়েছে যাঁদের বাড়িতে ২–৩ দিনের বেশি চাল–ডাল মজুত নেই, তাঁদের সমস্যা দেখতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কাউকে যদি দেখেন খেতে পাচ্ছেন না, তাহলে পুলিশ, বিডিও–কে খবর দিন।পুলিশ ও বিডিও তাঁদের খাবার পৌঁছে দেবে।‌‌’‌

জনপ্রিয়

Back To Top