‌সব্যসাচী সরকার
অনেকদিন ধরেই খবর আসছিল বেআইনিভাবে চাল মজুত করা হচ্ছে। তারপর সেই চালই ঘুরপথে বাজারে আনা হচ্ছে বাড়তি দামে। সাধুর ছদ্মবেশে এমনই এক মজুতদারকে ধরল পুলিশ। অবশ্য ওই মজুতদারের কাছেই ‘‌সাধুবাবা’‌ জানতে চেয়েছিলেন তাঁর আশ্রমের জন্য চাল চাই, কোথায় পাওয়া যাবে!‌ তখনও মজুতদারের মাথায় আসেনি পুলিশ পিছু নিয়েছে। কলকাতার পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ একটা দল তৈরি করে অবশেষে চাল আর গম মজুত করার গুদামে হানা দিল। অবশ্য চিৎপুর থানা এলাকার বীরপাড়া লেনে খুব সহজে মজুতদারকে ধরা যায়নি। অতি চতুর ওই মজুতদার। শেষে একজন সাব–ইনস্পেক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয় গতিবিধির ওপর নজর রাখতে। পরপর তিনদিন আলাদা আলাদা ছদ্মবেশে ঘুরঘুর করে শেষে পাওয়া যায় গুদামের ঠিকানা। মাথায় পাগড়ি বেঁধে গেরুয়া পোশাক পরে সাধু সেজে (‌করোনার জন্য অবশ্য মাস্ক ছিল মুখে‌!‌)‌ ১৪/‌১এস, বীরপাড়া লেনের গুদামে হানা দেওয়া হয়। ইবি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের রেশন কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে তা মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছিল।
ওই সাধু এসে খবর দেন, অবশেষে পাওয়া গেছে সেই ঠিকানা। চাল–গম মিলিয়ে ৫০০ কেজির মতো উদ্ধার হয়েছে। সুদীপ শ ওরফে টিঙ্কু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এই ব্যক্তি কোনও রেশন দোকানের ডিলার নয়, এর ব্যবসা হল মজুতদারির। কিছুদিন ধরেই সরকারি মিলের চাল বণ্টন নিয়ে অভিযোগ আসছিল। তারপরেই এই হানা।
করোনার জন্য লকডাউনের সময় বিভিন্ন জায়গাতেই চলছে কালোবাজারি, এ রকম অভিযোগ মাঝে মাঝেই আসছে পুলিশের কাছে। বিশেষ বিশেষ কিছু খাদ্যসামগ্রী ঘিরেই কালোবাজারিরা তৎপর। এর আগে ইবি–র বেশ কয়েকটি দল বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে ন্যায্যমূল্যের থেকে বেশি দামে জিনিসপত্র বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তার খোঁজ নেয়। এর পরেই অভিযোগ আসে, লকডাউনের বাজারে চালের কালোবাজারিরা মাথাচাড়া দিয়েছে। জেলাতেও একই ধরনের সমস্যার কথা পুলিশের কানে গেছে।
ইতিমধ্যেই ইবি–র কাছে খবর এসেছে, সর্ষের তেল নিয়ে কালোবাজারিরা বাজারে নেমে পড়েছে। কলকাতার বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রে টিন–ভর্তি সর্ষের তেল মজুত করে রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মজুত হচ্ছে ডালও। এবার সেদিকেই নজর ইবি–র।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top