সাগরিকা দত্তচৌধুরি- গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ জন করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছেন। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২,৩০৬ জন। সুস্থতার হার ৩৯.‌‌৯৫ শতাংশ। এদিন আরও ২৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্ত ৫,৭৭২। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩,১৪১ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৩। ২৪ ঘণ্টায় ৯,৪৮০ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরীক্ষার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৩ হাজার ২৩১। সরকারি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১৭,০৩৭ জন। ছাড়া পেয়েছেন ৫৩,৩২০ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১, ৪৪,৬৭৮ জন। হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৯২, ৪৫১ জন। 
এদিন থেকে বিশ্ব বাংলা ক্রীড়াঙ্গন কোভিড হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ল্যাবরেটরির সংখ্যা দাঁড়াল ৪১টি।  
বিধাননগরের বিএ ব্লকের এক বৃদ্ধা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের বাড়ি ঘিরে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এলাকা জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। দত্তাবাদে দিন কয়েক আগে কয়েকজনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে ২ জনের পজিটিভ এসেছে।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আচমকাই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ চলে আসে। পরিষেবায় কোনও সমস্যা হয়নি।
পূর্ব মেদিনীপুরে আরও ৭ করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক। পটাশপুর ১, ভগবানপুর ২ এবং চণ্ডীপুর ব্লক এলাকার বাসিন্দা এই ৫ জন। অপর দুই করোনা আক্রান্ত হলদিয়া ব্লক এবং হলদিয়া পুরসভা এলাকার। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল জানান, রবিবার রাতে ওই সাত জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এদিন ভর্তি করা হয় পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে।
করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পূর্ব বর্ধমান জেলায় কমছে । জেলাশাসক বিজয় ভারতী এদিন জানান, জেলায় গত দু’‌দিনের তুলনায় এদিন আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম। মাত্র চার জনের ধরা পড়েছে। তাঁরা মহারাষ্ট্র থেকে এসেছেন। তাঁদের সনাকা কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  ২৩ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত এই জেলায় মোট ৯৬ জনের করোনা ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যেই ৪৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ৫০ জনের চিকিৎসা চলছে।
এদিন কোচবিহারে ৮৮৬ জনের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আর তাতেই অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে এই জেলায়। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে‌র সহকারী সুপারের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে।
এদিকে হাওড়ায় রেলের অর্থোপেডিক হাসপাতালে এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সমস্যা তৈরি হয়। ২৫ মে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে এই হাসপাতালেরই এক ফার্মাসিস্ট ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর সোয়াব রিপোর্ট আসার আগে হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালকে না জানানোর অভিযোগ ওঠে। ৩০ মে ওই ফার্মাসিস্টের মৃত্যু হয়। ডেথ সার্টিফিকেটে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। মৃত্যুর পর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হলে আবাসনে আনা হয়। স্থানীয় শ্মশানে দাহ করা হয়।
এ বিষয়ে রেলের তরফে জানানো হয়, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সব বিষয়েই সমন্বয় রেখে কাজ করছে পূর্ব রেল।  তাদের দাবি, করোনা নিয়ে সরকারি প্রোটোকল মেনেই তারা চলছে। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন রেল কলোনি এলাকায় করোনা সংক্রমণের অভিযোগও অস্বীকার করেছে পূর্ব রেল। কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থতার খবর পেয়ে ওই ফার্মাসিস্টকে তাঁরা রেলের হাসপাতালে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেখানে আসতে না চাইলে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মৃত্যুও হয় ওই বেসরকারি হাসপাতালে। পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের লোকজনও রেলের বদলে বেসরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা করান বলে জানা গিয়েছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top