চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও বুদ্ধদেব দাস,কাটোয়া ও মেদিনীপুর: সরকারের লাগাতার অভিযানে পিছু হটছে বালি মাফিয়ারা। পুলিস, রাজস্ব বিভাগ, ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঁাড়াশি অভিযানের মুখে কার্যত দিশেহারা মাফিয়ারা। বৃহস্পতিবারই কাটোয়ায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিসাররা অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও করেন ২ পাচারকারীকে। বাজেয়াপ্ত করা হয় ২টি বালিবোঝাই ট্রাক্টর। দেখা যায়, বৈধ চালানের কাগজের তারিখ মুছে সেই জায়গায় অন্য তারিখ লিখে অবাধে কর ফঁাকি দিয়ে চলছিল বালি পাচার। এই চক্রের সঙ্গে খাদান মালিকের যোগসাজশ রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক দেবাশিস বিশ্বাস জানান, অভিযান চলবে।
এদিকে, মেদিনীপুরের কঁাসাই নদীর চরে চঁাদড়া, ধেড়ুয়া, গোয়ালডাঙা, কণকাবতী, মণিদহ, শালবনি, চন্দ্রকোনা, দঁাতন, নারায়ণগড়, শ্রীরামপুর, বেঙ্গাই, রামনগর, হরিশপুর যেসব এলাকায় নদীতে জেসিবি মেশিন নামিয়ে বেআইনিভাবে বালি তোলা বন্ধ হয়েছে। চালানে যে পরিমাণ বালি নিয়ে যাওয়ার উল্লেখ থাকত, ডাম্পারে তার প্রায় দ্বিগুণ বালি নিয়ে যাওয়া হত। জেলা ভূমি সংস্কার আধিকারিক উত্তম অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তঁারা বেআইনিভাবে বালি তোলা ও নিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছেন। বালি মাফিয়ারা মেশিন নিয়ে পালিয়েছে। শ্রমিকরা হাতে বালি তুলছেন। ডাম্পারের বদলে ট্রাক্টরে করে বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একবার কাটা চালান কোনওভাবেই পরের বার যাতে ব্যবহার করা না যায়, প্রতিবারই চালানের রং বদলে দেওয়া হচ্ছে। বালি তোলা থেকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া সবটাই ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছে।
কেতুগ্রাম ২নং ব্লকের বেগুনকোলা মৌজায় অজয়ের বালি খাদানেও হানা দেয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। অজয় থেকে নৌকোয় বালি তুলে পাচার চলছিল। সরকারি লোকজন দেখে জলপথেই পিঠটান দেয় পাচারকারীরা। এরপর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে কেতুগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, নৌকোভর্তি বালির দর ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। কেতুগ্রামের শঁাখাইয়ে অজয় ও ভাগীরথীর সঙ্গমস্থল থেকে বালি তুলে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কাটোয়া মহকুমায় বৈধ বালি ঘাটের সংখ্যা ২৮টি।

খাদান থেকে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালি। ছবি: চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়

জনপ্রিয়

Back To Top