স্বদেশ ভট্টাচার্য, হিঙ্গলগঞ্জ, ১৫ জুলাই- গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দঁাড়ালেন তৃণমূল ছাত্ররা। এমনই ছবি দেখা গেল হিঙ্গলগঞ্জ কলেজে।  সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের যে সব অভাবী–মেধাবী পড়ুয়ারা কলেজে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে হতাশ, তঁাদের সাহায্যে এগিয়ে এল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। হিঙ্গলগঞ্জ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ছাত্রছাত্রীদের হাতে ভর্তির ফি তুলে দিয়ে তেমনই এক দৃষ্টান্ত গড়ল।
আগেই প্রতিমা মণ্ডল, ইমরান কয়াল, সুস্মিতা মণ্ডল, ঝুলন মণ্ডলকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। সোমবার তঁাদের হাতে কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত নথিপত্র তুলে দেওয়া হল। ছাত্র সংসদ কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ছাত্রছাত্রীরা। হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি এলাকায় বাড়ি প্রতিমা মণ্ডলের। রাজমিস্ত্রির কাজ করেন প্রতিমার বাবা। উচ্চমাধ্যমিকে ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন তিনি। কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই প্রতিমার। হিঙ্গলগঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদে আবেদন করেন তিনি। তারাই টাকা দিয়ে প্রতিমাকে কলেজে ভর্তি করে দেয়। 
হিঙ্গলগঞ্জের কনকনগর এসডি ইনস্টিটিউশনের ছাত্রী সুস্মিতা মণ্ডল উচ্চ মাধ্যমিকের ৯৪ শতাংশের ওপর নম্বর পেয়েছে। সুস্মিতার বাবা শ্রীপদ মণ্ডল পান বিক্রেতা। মেয়েকে কলেজে ভর্তি করার টাকা জোগাড় করতে পারছিলেন না শ্রীপদ। এ কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ। সুস্মিতা বলেন, ‘হিঙ্গলগঞ্জ কলেজে বাংলায় অনার্স নিয়ে ভর্তি হতে ২২৫০ টাকা ইউনিয়নের দাদারা আমাকে দিয়েছেন। সেজন্য আমি কলেজে ভর্তি হতে পারলাম। আমি তঁাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ তেমনই ইমরান, প্রতিমা এবং ঝুলনের ভর্তি ফি বাবদ ৫১৬০ টাকা দিয়েছে ওই কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
এ বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট সভাপতি ইরফান হাবিব বলেন, ‘আমাদের সীমিত ক্ষমতা দিয়ে যতটুকু পেরেছি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবীদের কলেজে ভর্তির জন্য পাশে দঁাড়িয়েছি।’‌ ইরফান বলেন, ‘টাকার জন্য যারা কলেজে ভর্তি হতে পারছেন না, এমন যঁারা আমাদের কাছে আবেদন করেছেন, তঁারাও যাতে ভর্তি হতে পারেন, সেই চেষ্টা করব।’ এদিন হিঙ্গলগঞ্জ কলেজে পড়ুয়াদের জন্য ক্যান্টিন এবং ইউনিয়ন রুমে উদ্বোধন করে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল বলেন, ‘ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা যে ভাবে নিজেদের মধ্যে চঁাদা তুলে গরিব ছেলেমেয়েদের ভর্তির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, তা আজকের দিনে বেনজির ঘটনা। এটাই ছাত্র সংগঠনের কাজ হওয়া উচিত।’ বিধায়ক বলেন, ‘‌ছাত্র সংগঠনের পাশে থেকে এমন উদ্যোগে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করতে চাই।’

এক ছাত্রীর হাতে ভর্তির টাকা তুলে দিচ্ছেন তৃণমূল ছাত্র নেতারা। হিঙ্গলগঞ্জ কলেজে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top