‌আজকালের প্রতিবেদন: কলেজে ভর্তির জন্য ছাত্রছাত্রীদের অনলাইনে ফর্ম পূরণে সাহায্য করতে এবার সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্প ডেস্ক খুলবে সরকার। রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় খোলা হবে এই হেল্প ডেস্ক। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই হেল্প ডেস্ক খোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। 
বুধবার এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌অনলাইনে ফর্ম পূরণে ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্প ডেস্ক খোলা হবে। বিভিন্ন সাইবার কাফের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে অনেক খরচ হচ্ছে। সরকারের এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নিখরচায় ফর্ম পূরণ করতে পারবে পড়ুয়ারা। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলের অনেক জায়গায় ইন্টারনেট ব্যবস্থা তেমন জোরালো নয়। ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হওয়ায় সেখানকার পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ছে। এই কারণেই সরকারি সহায়তা কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌ কোথায় কোথায় খোলা হবে এই হেল্প ডেস্ক বা সহায়তা কেন্দ্র, কারা থাকবেন দায়িত্বে তা এখনও ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। 
বেশ কয়েক বছর ধরেই স্নাতকে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য কলেজে কলেজে ঘুরে আর ফর্ম তুলতে হয় না ছাত্রছাত্রীদের। অনলাইনে ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া চালু করেছে সরকার। এ বছর শুধু ফর্ম পূরণই নয়, ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেওয়া শুরু করে পুরো প্রক্রিয়াটাই অনলাইনে করা হয়েছে। কিন্তু অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা নিয়ে নানারকম অভিযোগ এবং সমস্যার কথা শোনা গেছে। ফর্ম পূরণের নামে সাইবার কাফেগুলি অনেক টাকা নিচ্ছে বলে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত জেলার বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে এই অভিযোগ এসেছে। ফর্ম পূরণেও কিছু গাফিলতি থেকে যাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ পড়ুয়ারা। এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের আশপাশের সাইবার কাফেগুলি ফর্ম পূরণের ‘‌চক্র’‌ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এইসব কারণেই সহায়তা কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে ভর্তির সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে কলেজে এই ধরনের হেল্প ডেস্ক খোলা হত। তা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় ছাত্র সংগঠনগুলির হেল্প ডেস্ক খোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 
এদিন বিবেকানন্দ স্কলারশিপের পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘‌২০০৭ সালে ৫৪৪ জন এই স্কলারশিপ পেয়েছিল। এ বছর ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮০৩ জন এই স্কলারশিপ পেয়েছে।’‌ প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল এবং উচ্চশিক্ষায় যত সরকারি নির্দেশ বেরিয়েছে তা নিয়ে তিনটি করে ছ’‌টি খণ্ড প্রকাশ করেন তিনি। অবসরের পরপরই শিক্ষকেরা যাতে পেনশন পান সেই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকে দেখতে আধিকারিকদের এদিন নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top