অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ৩০ মে- চা–‌‌বাগান পুরোমাত্রায় খুলুক। গত কয়েকদিন ধরে এমন দাবিই জোরালো হচ্ছিল চা–‌বলয়ে। বাগান কর্তৃপক্ষ  চাইছিলেন, ১০০ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ হোক। করোনা সঙ্কটে যা সম্ভব হচ্ছিল না। উভয় সঙ্কটের মধ্যে ছিল খোদ সরকারও। একদিকে সংক্রমণের আশঙ্কা। অন্যদিকে, চা–‌বাগানের উৎপাদন বজায় রাখা। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের হাতে যেন টাকা আসে, সেই বিষয়টিও মাথায় ছিল প্রশাসনের। বিভিন্ন মহলকে স্বস্তি দিয়ে অবশেষে রাজ্য সরকার সাহসী পদক্ষেপ নিল। রবিবার থেকেই উত্তরবঙ্গের ৩০২টি পূর্ণাঙ্গ চা–‌‌বাগানে পূর্ণ উদ্যমে ১০০ শতাংশ শ্রমিক দিয়েই কাজ চালানো যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি চা–‌‌বলয়ের একটা বড় অংশ। 
চা–‌‌বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, ‘‌পরিস্থিতি বিবেচনা করে কত দ্রুত গতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তা আর একবার দেখিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু ৩০২টি চা–‌বাগান নয়, স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ চা–‌শ্রমিক উপকৃত হবেন। নিয়মিত কাজ না থাকায় শ্রমিকদের সমস্যা হচ্ছিল। প্রতিটি মানুষের হাতে এখন টাকা দরকার। আশা করি, চা–‌বাগানের ৫ লক্ষ শ্রমিকের সেভাবে আর আর্থিক সমস্যা হবে না।’‌ টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার ডুয়ার্স শাখার সচিব রাম অবতার শর্মা বলেন, ‘‌দুহাত তুলে আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। সেকেন্ড ফ্লাশের আগে এই মুহূর্তে অনেক বেশি কর্মীর প্রয়োজন ছিল।’‌ মালিক সংগঠন আইটিপিএ–‌‌র অন্যতম কর্তা অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘‌সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা মর্যাদা দেব। সরকারি বিধি মেনেই কাজ হবে চা–‌বাগানে।’‌ ডিবিআইটিএ সচিব সঞ্জয় বাগচি বলেন, ‘‌আমরা খুশি। সেকেন্ড ফ্লাশে সবচেয়ে ভাল চা পাতা পাওয়া যাবে।’‌ 
এদিকে, চা বিশেষজ্ঞদের কথায়, গত ২ মাসে চায়ের উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গিয়েছিল। কারণ সীমিত সংখ্যক শ্রমিকদের নিয়ে কাজ চলছিল। বাগানের পাশাপাশি কারখানাতেও পুরোমাত্রায় কাজ হচ্ছিল না। চা–‌বলয়ের আশা, এবার উৎপাদন নিয়ে সমস্যা থাকবে না। উল্লেখ্য, লকডাউনের জন্য প্রথমে চা–‌বাগান বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে ৫ শতাংশ শ্রমিক নিয়ে কাজ হয়। পরে এই শিল্পকে বাঁচাতে ১৫ শতাংশ শ্রমিককে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। ধাপে ধাপে ২৫ ও ৫০ শতাংশে বাড়ানো হয়। সবাইকে নিয়মিত কাজ দেওয়া যাচ্ছিল না। এবার পুরোদমেই কাজ শুরু হচ্ছে বাগানে। মাঝেরডাবরি চা–‌‌বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, ‘‌গত ৭০ দিনে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। চা–‌শ্রমিকেরা অনেক কিছু দেখেছেন। আমরা সবাই সচেতন। প্রতি বাগানে আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে।’‌ তবে এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা না হওয়ায় হতাশ উত্তরের চা–‌‌বলয়।

সামাজিক দূরত্ব মেনেই কাজ চলছে চা–‌বাগানে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top