অলক সরকার, শিলিগুড়ি: ‘পাহাড় যত ভাল থাকবে, তত বেশি পর্যটক আসবেন। পাহাড়ে যত শান্তি থাকবে, তত উন্নয়ন হবে। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য, কাজের জন্য আমাদের সরকার জিটিএ–কে পুরো সহযোগিতা করবে।’ উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা করার পর শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী যখন পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য নানান কাজের কথা জানাচ্ছিলেন, তখন সেই মঞ্চেই বসেছিলেন জিটিএ–র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনয় তামাং, ভাইস চেয়ারম্যান অনীত থাপা, হিল এরিয়া ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সভাপতি মন ঘিসিং এবং অন্তত পাহাড়ের ১২টি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয়, উৎসব শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রীর কাজে আপ্লুত পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির মানুষ শিলিগুড়ির রাজপথে শোভাযাত্রাও করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিনয় তামাং, অনীত থাপারা কাজ করছেন। আরেকটি বোর্ডের মাধ্যমে মন ঘিসিংও ভাল কাজ করছেন। অন্য বোর্ডগুলিও উন্নয়নের কাজ করছে পাহাড় থেকে তরাই–ডুয়ার্সেও। সকলকে অভিনন্দন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনধারিয়া, পেডং, গরুবাথান থেকে উত্তরবঙ্গের সর্বত্র উন্নয়নের কাজ চলছে। বাংলা–নেপাল–ভুটান সংযোগকারী রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকেও বিকল্প আরও একটি রাস্তা তৈরি হচ্ছে। যা মেচেদা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর–হুগলি–বীরভূম হয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাহাড়ের ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক, তিনধারিয়া, ধসবিধ্বস্ত পাগলাঝোরার রাস্তা, সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, সেবক থেকে সিকিম পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ–দক্ষিণবঙ্গ করিডরের জন্য ৩৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। উৎসব প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উৎসব আমাদের এক জায়গায় এনে জড়ো করে। উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়–সমতলের মেলবন্ধনের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার পর গোর্খাল্যান্ড নিয়ে মাতামাতির পরিবেশ বন্ধ হয়ে গেছে। উৎসবে উপস্থিত বিনয় তামাং জানান, এই মুহূর্তে গোর্খাল্যান্ড নয়, উন্নয়ন আমাদের কাছে অগ্রাধিকারের জায়গায় আছে। রাজ্য সরকার যেভাবে উন্নয়নে সহযোগিতা করছে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি। মন ঘিসিংও জানান, রাজ্য সরকারের সঙ্গে একশো শতাংশ আছি। যেভাবে পাহাড়ে আবার পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে, শান্তি ফিরেছে, তারপর মুখ্যমন্ত্রীর মুখে পাহাড় উন্নয়নের কথা শুনে উৎসব প্রাঙ্গণেও করতালি জোরদার হয়েছে। এদিনের উৎসব মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, বাচ্চু হাঁসদা, সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন, শান্তা ছেত্রি, বিধায়ক উদয়ন গুহ, সৌরভ চক্রবর্তী। পাহাড়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন বিনয় তামাং, অনীত থাপা, মন ঘিসিং প্রমুখ।

 

উত্তরবঙ্গ উৎসবের স্মরণিকা প্রকাশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে, সোমবার। ছবি:‌ কৌশিক চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top