‌স্বদেশ ভট্টাচার্য, বসিরহাট: জনতার স্লোগান, হাততালি থামিয়ে ‌‘‌বুলবুল’‌–এর তাণ্ডবে মৃতদের পরিবারকে কাছে ডেকে সান্ত্বনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গভীর সমবেদনা জানিয়ে একে একে ৫ পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন তিনি। বুধবার বসিরহাট–১ ব্লকের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মেরুদণ্ডী স্লুইস গেটের পাশে বিদ্রোহী সঙ্ঘের মাঠে তখন ভিড় উপচে পড়েছে। তবে এই ভিড়ে কোথাও তৃণমূলের পতাকা দেখা যায়নি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন হেলিকপ্টারে হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালি ব্লক ছুঁয়ে বুলবুল–কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বসিরহাটে মেরুদণ্ডী হেলিপ্যাডে নেমে সোজা ঢুকে যান কর্মতীর্থে। বৈঠকে বসিরহাট মহকুমায় বুলবুল–কবলিত ৫টি ব্লকের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তঁাদের কাছ থেকে সমস্যার কথা শোনেন। বুলবুল ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পর গ্রামগুলির কী অবস্থা রয়েছে তা জানতে চান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌সরকার ত্রাণ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনও কার্পণ্য করবে না। আপনারা মানুষের মধ্যে তা বিলির করার ব্যবস্থা করুন।’‌ বৈঠক সেরে মুখ্যমন্ত্রী বাইরে চলে আসেন। উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট মহকুমায় বুলবুলের বলি ৫ পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে ২টি করে চেক তুলে দেন। একটা ২ লক্ষ টাকার, আরেকটা ৪০ হাজার টাকার। তিনি প্রথম চেক নিতে ডাকেন বিদ্যুতের খুঁটি চাপা পড়ে মৃত মইদুল গাজির স্ত্রী ফজিলা বিবিকে। মুখ্যমন্ত্রীর নামে স্লোগান ওঠে। তিনি সকলকে থামিয়ে দেন। বলেন, ‘‌এতে হাততালি দেওয়ার কিছু নেই। এই পরিবারের পাশাপাশি বাংলার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে‌।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় জনতা থেমে যায়। এরপর আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এই টাকা ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগাবেন। সমস্যায় পড়লে আমাকে জানাবেন।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top