আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: আমফানের ভয়াবহতা চাক্ষুষ করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাংলা ও ওডিশায় পাঠানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে যত শীঘ্র সম্ভব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে রিপোর্ট দেবে তারা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এ কথা জানিয়েছে দুটি কেন্দ্রীয় সংস্থা আবহাওয়া বিভাগ (‌আইএমডি)‌ ‌ও এনডিআরএফ। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি প্রতিটি দলের নেতৃত্বে থাকবেন উপসচিব পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক। প্রতিটি দলে থাকবেন বিভিন্ন মন্ত্রকের ১২ জন সদস্য। দুই রাজ্যে যাবে পৃথক দুটি দল। শুক্রবার সকালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় পৌঁছবে দল দুটি।
বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা থাকায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেভাগে ৫ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। ওডিশা সরকার সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ২ লক্ষ মানুষকে। ফলে প্রাণহানি অনেকটা কম হয়েছে। তবে ঝড়ের দাপটে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও তুমুল বৃষ্টির জেরে সুন্দরবন–‌‌সহ ছ’‌টি জেলা লন্ডভন্ড হয়েছে। ৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রচুর বাড়ি ভেঙেছে। গাছ ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায়। ওডিশায় ক্ষতি আংশিক।
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এর মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া বিভাগ (‌আইএমডি)‌, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, অর্থ, জলশক্তি, এনডিআরএফ–‌‌সহ অন্য দপ্তরগুলি। বৃহস্পতিবার সকালে আমফানে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে আমফান পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক করেন ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা। ওই বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে আশ্রয় শিবিরে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। কথা বলবেন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও। 
এদিকে, আমফান–‌তাণ্ডবের পরে রাজ্যের পরিস্থিতি জানতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। পরে অমিত শাহ টুইটে লিখেছেন, ‘‌ঘূর্ণিঝড় আমফান নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পটনায়েক এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা হয়েছে। সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’‌ রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার ছবি দেখেছি। এই কঠিন সময়ে সারা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে রয়েছে। রাজ্যের সাধারণ মানুষকে শুভকামনা জানাই। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিষয়টি নিরীক্ষণ করে চলেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন তাঁরা। দুর্গতদের সাহায্যের সবরকম বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।’‌
ইতিমধ্যে আমফান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব গৌবা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে এদিন সকালেই কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হয়েছে, আমফানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায়। ওডিশায় ক্ষতি শুধুমাত্র কৃষিক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এরইমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধারকার্যে গতি আনতে পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল। বিশেষত কলকাতায় কাজ করবে দলগুলি। এর আগে দুই রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল এনডিআরএফের ৩৬টি দল। পশ্চিমবঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্য পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রককে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top