আলোক সেন, বাঁকুড়া: গতানুগতিক চাষের চেয়ে বিকল্প চাষ করলে যে প্রচুর পরিমাণে লাভ করা যায়, তা হাতেনাতে প্রমাণ করে দিয়েছে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর। জেলার চাষিরা তাই বিকল্প চাষের দিকে ক্রমশ ঝুঁকছেন। বিকল্প চাষগুলির মধ্যে শীতকালীন ফসল হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ক্যাপসিকাম চাষ। কোতুলপুর, জয়পুর, বিষ্ণুপুর, সারেঙ্গা প্রভৃতি ব্লকগুলিতে অনেক চাষি এখন ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। 
কোতুলপুর থানা লেগোয়া গ্রামের সমীর হাজরা গত বছর ভাল লাভ করেছিলেন ক্যাপসিকাম চাষ করে। এবার তিনি ফের ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন ৭ কাঠা জমিতে। তিনি জানান, ৩ হাজার ক্যাপসিকামের চারা বসিয়েছেন। চাষ করতে তঁার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। পরে তিনি ক্যাপসিকাম বিক্রি করে পেতে পারেন প্রায় ৩ লক্ষেরও বেশি টাকা। ৪–৫ বছর ধরে তিনি এই চাষ করছেন। এই চাষে তঁার আগ্রহ দেখে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর গত বছর তঁার খেতটিকে গ্রিনহাউস করে দিয়েছে। অর্থাৎ গোটা খেতটি সবুজ জালের একটি আচ্ছাদন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে রোদ সরাসরি গাছগুলির ওপর না পড়ে। এর ফলে আরও বেশি দিন তিনি ক্যাপসিকাম ফলন পেতে পারবেন। আগে যেখানে ফাল্গুন মাসেই ফলন পাওয়া শেষ হয়ে যেত, এখন ফলন পাওয়া যাবে বৈশাখ মাস পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘‌গাছ পিছু ৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।’‌ 
কার্তিক মাসের শুরুতে তিনি চারাগুলি লাগিয়ে ছিলেন। অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। এখন সপ্তাহে ৫০ কেজি করে ক্যাপসিকাম পান তিনি। শীত যত বাড়বে, ফলন তত বাড়বে। পৌষ ও মাঘ মাসে সপ্তাহে ২ কুইন্ট্যাল করে ফলন পাওয়া যায়। বাজারে এখন পাইকারি হারে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ক্যাপসিকাম। কিন্তু এই দাম দ্রুত কমে যাবে। গড় পাইকারি দাম দঁাড়াবে ২০–২৫ টাকা কেজি। ৩ হাজার গাছ থেকে সারা মরসুমে ১৫০ কুইন্ট্যাল পর্যন্ত ক্যাপসিকাম পাওয়া যেতে পারে। যার মূল্য দঁাড়াবে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, ‘‌আগে ওই ৭ কাঠা জমিতে বঁাধাকপি চাষ করতেন। তাতে মোট খরচ হত ১০ হাজার টাকার মতো। লাভ খুব একটা বেশি হত না। জেলা উদ্যান পালন দপ্তর আমাকে বিকল্প চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে।’‌ এখন তঁাকে দেখে জেলার বিভিন্ন ব্লকের অসংখ্য চাষি ক্যাপসিকাম চাষে নেমে পড়েছেন। ক্যাপসিকাম মহার্ঘ সবজি হওয়ায় এতদিন জেলার সবজি বাজারগুলিতে দেখাই যেত না। এখন অধিকাংশ সবজি বাজারে ক্যাপসিকামের ছড়াছড়ি।

জনপ্রিয়

Back To Top